নয়াদিল্লি: জাতীয় সুরক্ষার ব্যাপারে বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি 'লক্ষ্যহীন', যার ফলে দেশের অভ্যন্তরে, সীমান্তে অশান্তি ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ করল কংগ্রেস। মঙ্গলবার ছত্তিশগড়ের সুকমায় মাওবাদী হামলায় ৯ সিআরপিএফ জওয়ান হত্যার পর কংগ্রেসের দাবি, কেন্দ্রের এনডিএ সরকার উগ্র বামপন্থা নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ। জওয়ান হত্যার ঘটনায় সরকারের নকশালপন্থার অবসানের দাবির অসারতা প্রমাণিত হল। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধী ট্যুইট করেন, ছত্তিশগড়ের সুকমার মাওবাদী হামলায় ৯ সিআরপিএফ জওয়ানের নিহত হওয়া ট্র্যাজিক ব্যাপার। এর মধ্যে দিয়ে ভ্রান্ত নীতির জেরে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার বেহাল দশা ফুটে উঠেছে। কংগ্রেস আধাসামরিক বাহিনীর ওপর এদিনের হামলাকে নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর উগ্রপন্থীদের নির্বিচার, নির্মম আঘাত বলেও তীব্র নিন্দা করে নিহত জওয়ানদের পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে, জখমদের দ্রুত আরোগ্য প্রার্থনা করেছে। গত বছর সুকমায় নৃশংস মাওবাদী আক্রমণে ২৬ সিআরপিএফ জওয়ানের হত্যার কথা স্মরণ করে কংগ্রেসের কমিউনিকেশনস-ইনচার্জ রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালা বলেন, এ থেকে বিজেপি সরকার কোনও শিক্ষা নেয়নি। মোদী সরকারের দিশাহীন, ভঙ্গুর, ধারাবাহিকতাহীন নীতির প্রত্যক্ষ ফলস্বরূপ ভারতের জাতীয় ঐক্য বিপন্ন। মোদী ক্ষমতা পাওয়ার জন্য জাতীয় নিরাপত্তার ইস্যুটি ফেরি করেছেন, কিন্তু গত চার বছরে আমরা শুধু দেশের নিরাপত্তা বিপন্ন হয়ে পড়তে দেখেছি। বিজেপি শাসনে সীমান্তের ওপার থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন, সীমান্ত পেরিয়ে অনুপ্রবেশ, নিরাপত্তা ঘাঁটিগুলির ওপর সন্ত্রাসবাদী হামলা, রাজ্যে রাজ্যে নকশাল হামলা বেড়েছে। তিনি বলেন, ফাঁপা দাবি, স্লোগানবাজি, প্রচারসর্বস্বতা সুষ্ঠু নীতির বিকল্প হতে পারে না। বাগাড়ম্বর, সংবাদপত্রের শিরোনাম হওয়ার চেষ্টা শুধু পরিস্থিতি খারাপ হয়, মানুষের বিপন্নতা বাড়ে। সুরজেওয়ালা এও বলেন, নোট বাতিল করে মোদী বুক ফুলিয়ে সন্ত্রাসবাদ, মাওবাদ শেষ করে দিয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। কিন্তু বাস্তব অন্য কথা বলছে। বড় অঙ্কের নোট বাতিল হওয়ার পর ২৩টি বড়সড় নকশাল হামলায় ৯৭ জন নিরাপত্তাকর্মী, ১২১ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন, শুধু জম্মু ও কাশ্মীরেই ৫৩টি বড় সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটেছে, যাতে মৃত্যু হয়েছে ৯৯ জন জওয়ান, ৬৪ জন সাধারণ নাগরিকের। গত ৩ বছরে নকশাল হামলার সামগ্রিক চিত্র মোদী ও বিজেপি সরকারের 'লম্বাচওড়া' দাবির মুখোশ খুলে দিয়েছে। লোকসভায় পেশ হওয়া পরিসংখ্যানেই প্রকাশ, ১২২টি হিংসাত্মক হামলা এ বছর হয়েছে, ১৪ জওয়ান, ১২ জন সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন। কিন্তু কংগ্রেস-ইউপিএ সরকারের শেষ ৪ বছরে নকশাল হামলার ঘটনায় অর্ধেকের বেশি কমে গিয়েছিল। সুরজেওয়ালার অভিযোগ, বলেন, প্রতিবার নকশাল হামলার পরই মুখ্যমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, কিন্তু এমন হামলা বন্ধ করার কোনও স্পষ্ট পদক্ষেপ এখনও চোখে পড়েনি। এও বলেন, গত বছর বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ নকশালবাড়ি থেকে দলের সম্প্রসারণ পরিকল্পনার সূচনা করেছিলেন। কিন্তু ওনার কীভাবে নকশাল মোকাবিলা করা যায়, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। ১৪ বছর যারা ক্ষমতায় আছে, নকশাল দমনে চরম ব্যর্থ হয়েছে, তাদের দায়িত্ব পালনে বাধ্য করার কোনও ব্যবস্থা কি আছে?