অযোধ্যা রায়: সোস্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক পোস্ট রুখতে জাতীয় সুরক্ষা আইন, হুঁশিয়ারি উত্তরপ্রদেশ পুলিশের
Web Desk, ABP Ananda | 04 Nov 2019 05:15 PM (IST)
যোধ্যা বিতর্কের ওপর সোস্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। অযোধ্যা জমি বিতর্ক মামলার আসন্ন রায় ও চলতি উত্সব-পার্বন উপলক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে, এমন বার্তা সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলাশাসক অনুজ কুমার ঝা।
নয়াদিল্লি: বাবরি মসজিদ-রাম জন্মভূমি জমি মালিকানা বিবাদ মামলায় সুপ্রিম কোর্টের বহু প্রতীক্ষিত রায় বেরনোর পর যে পরিস্থিতিই তৈরি হোক, তারা মোকাবিলায় প্রস্তুত বলে জানাল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। শীঘ্রই অযোধ্যা মামলার রায় দিতে চলেছে শীর্ষ আদালত। শীর্ষ পুলিশকর্তাটি বলেছেন, তাঁদের অফিসাররা সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলির ওপর লাগাতার নজর রাখছেন। যে কোনও আপত্তিকর, প্ররোচনামূলক পোস্ট মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। যারা সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা ছড়ানোর চেষ্টা করবে, তাদের জাতীয় সুরক্ষা আইনের কঠোর ধারায় জড়াতে পুলিশ বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবে না। রাজ্যের ডিজিপি ওপি সিংহ বলেছেন, আমরা একেবারে প্রস্তুত। কোনও পরিস্থিতিতেই কাউকে নিজের হাতে আইন তুলে নিতে দেওয়া হবে না। আমাদের গোয়েন্দা মেশিনারি চাঙ্গা করা হয়েছে। প্রয়োজনে আইনশৃঙ্খলা বানচালকারীদের বিরুদ্ধে জাতীয় সুরক্ষা আইন প্রয়োগ করা হবে। এদিকে অযোধ্যা বিতর্কের ওপর সোস্যাল মিডিয়ায় উসকানিমূলক বক্তব্য পোস্ট করার নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে জেলা প্রশাসন। অযোধ্যা জমি বিতর্ক মামলার আসন্ন রায় ও চলতি উত্সব-পার্বন উপলক্ষ্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে, এমন বার্তা সোস্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন জেলাশাসক অনুজ কুমার ঝা। দেশের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে সুপ্রিম কোর্টের ৫ বিচারপতির বেঞ্চ ৪০ দিন টানা শুনানির পর অক্টোবরে অযোধ্যা মামলার রায়দান স্থগিত রেখেছে। ১৭ নভেম্বর অবসর নিচ্ছেন প্রধান বিচারপতি। হয়তো তার আগেই এই মামলার রায় ঘোষণা করবে বেঞ্চ। অযোধ্যার ২.৭৭ একর জমির মালিকানা বিতর্কে রায় দেবে তারা। উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথও মন্ত্রিসভার সদস্যদের রায় বেরনোর আগে কোনওরকম বিতর্কিত মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে বলেছেন। শুনানি চলাকালে হিন্দু সংগঠনগুলি সওয়াল করে, পুরো ২.৭৭ একর জমিই ভগবান রামের জন্মস্থান। পাল্টা মুসলিম গোষ্ঠীগুলিও ওই জমির মালিকানা দাবি করে সওয়াল করে, ১৫২৮ সালে ওই মসজিদ তৈরির সময় থেকেই ওই জমি তাদের। ২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট তার রায়ে ২.৭৭ একর জমি তিন পক্ষ, সু্ন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া রামলালার মধ্যে সমান তিনভাগে বন্টন করতে বলে। পাল্টা তাকে সুপ্রিম কোর্টে চ্যালেঞ্জ করে ১৪টি পিটিশন পেশ করা হয়।