বেঙ্গালুরু: বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগের জেরে ‘প্রেমিক’ স্বামী ও শ্বশুরের হাতে খুন হওয়ায় আত্মঘাতী মহিলা। বেঙ্গালুরু পুলিশ শ্রুতি গৌড়া নামে শনাক্ত করেছে তাঁকে। নেলামঙ্গলার রেলওয়ে গোল্লাহাল্লি গ্রাম পঞ্চায়েতের ডেভেলপমেন্ট অফিসার ছিলেন ২৮ বছরের শ্রুতি।

পেশায় আইনজীবী ৩৩ বছরের অমিত কেশব মূর্তির সঙ্গে শ্রুতির বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক আছে বলে অভিযোগ ছিল তাঁর স্বামী রাজেশ ও শ্বশুর গোপাল কৃষ্ণের।

শ্রুতি, রাজেশের একটি সন্তান আছে। বিবাহিত অমিতও এক সন্তানের বাবা। দু বছর ধরে শ্রুতি, অমিত পরস্পরকে চিনতেন। তাঁদের ‘সম্পর্ক’ নিয়ে দুজনকেই রাজেশ ও তাঁর বাবা বেশ কয়েকবার সাবধান করে দেন বলে জানা গিয়েছে।

জনৈক পুলিশ অফিসার বলেন, রাজেশের দাম্পত্য জীবনে চরম অশান্তি চলছিল। তাঁর বাবা একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পুত্রবধূর বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তিনি নাকি লজ্জায় সমাজে মুখ দেখাতে পারতেন না। রাজেশ স্ত্রীর গাড়িতেও জিপিএস  সিস্টেম বসিয়ে তিনি কখন, কোথায় যান, সব নজরে রাখতেন। বারবার সতর্ক করে দেওয়ার ফলে ইদানীং শ্রুতি, অমিত দেখাসাক্ষাত্ কমিয়ে দিয়েছিলেন, যদিও সম্পর্ক শেষ হয়নি। শুক্রবার দুপুরে গাড়িতে লাগানো জিপিএস থেকে শ্রুতি টুমকুর রোডের দিকে যাচ্ছেন জানামাত্র তাঁকে ফলো করতে থাকেন রাজেশ ও তাঁর বাবা। স্থানীয় কলেজের সামনে শ্রুতি, অমিতকে হাতেনাতে পাকড়াও করেন তাঁরা। সেখানেই অমিতকে নিশানা করে তিন রাউন্ড গুলি চালান রাজেশ। দুটি বুলেট বিদ্ধ করে  তাঁকে। তারপরই রাজেশ ও তাঁর বাবা ঘটনাস্থল থেকে সোজা স্থানীয় থানায় আত্মসমর্পণ করেন।

অমিত খুন হওয়ার পর শ্রুতি এলাকার একটি হোটেলে ওঠেন। সেখানেই গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি।