ভুবনেশ্বর: জম্মু ও কাশ্মীরের পুলওয়ামায় গত ১৭ জুন আইইডি বিস্ফোরণে জখম হন, ১৮ জুন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় মারা যান ওড়িষার ঢেঙ্কানলের ছেলে অজিত কুমার সাহু, ৪৪ রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের জওয়ান। শেষকৃত্যের সময় তাঁর মরদেহের কফিন রাজ্যের শাসক দল বিজেডির পতাকায় মুড়ে ফেলার ছবি সোস্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ায় বিতর্ক। বিরোধী দল বিজেপি এজন্য মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেডি সভাপতি নবীন পট্টনায়কের নিঃশর্ত ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করেছে। বৃহস্পতিবার তোলা ছবিটি সোস্যাল মিডিয়ায় ছড়ায় আজ। বিজেপির প্রাক্তন সমরকর্মী সেলের রাজ্য সভাপতি কর্নেস বি কে বাস্তিয়া বলেন, সাধারণ মানুষ ও শহিদ জওয়ানের পরিবারের অনুভূতিকে অসম্মান করায় ক্ষমা চান নবীন পট্টনায়ক। জাতীয় পতাকার বদলে শহিদের কফিন ঢাকা পড়ল বিজেডির পতাকায়। এটা দুর্ভাগ্যজনক। ট্যুইটে শাসক দলের ক্ষমাপ্রার্থনা দাবি করেছেন বিজেপি সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন এমপি বৈজয়ন্ত পন্ডা। বলেছেন, তেরঙ্গা পতাকার বদলে ওড়িষার শাসক দল তাদের পতাকায় একজন ভারতীয় জওয়ানের কফিন মুড়ে দিয়ে তাঁর মৃত্যু নিয়ে রাজনীতি করছে, এটা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। বুধবার রাতে সাহুর নিথর দেহ বিজু পট্টনায়ক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এলে রাজ্যপাল গণেশি লাল সহ অনেকে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সেই কফিন প্রথমে ঢেঙ্কানল মিনি স্টেডিয়ামে, পরে তাঁর গ্রাম বাদাসুয়ালায় শেষকৃত্যের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। নিহত জওয়ানের ভাই পরমেশ্বর রাও বলেন, বিজেডির লোকজন ওকে ঢেঙ্কানল জেলায় আমাদের গ্রামের পথে খুনটুনির কাছে পুষ্পস্তবক দিয়ে ওর কফিন দলীয় পতাকায় মুড়ে দেয়। পরে সেটি সরিয়ে দেওয়া হয়। আমার ভাই কিন্তু কোনও রাজনৈতিক দলের হয়ে কাজ করত না! দেশের জন্য শহিদ হয়েছে। বিজেডি মুখপাত্র সস্মিত পাত্র অবশ্য ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক, নিন্দাযোগ্য বলে উল্লেখ করে বলেন, আমাদের দল শহিদদের জন্য বিরাট সম্মান বোধ করে। আমরা ঘটনাটির নিন্দা করছি। এর সঙ্গে যুক্ত সবার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাহুর ভাই এ ঘটনা নিয়ে রাজনীতি হওয়া উচিত নয় বলে অভিমত জানিয়ে বলেছেন, পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্যকে হারালাম। আর কোনও বিতর্ক চাই না। এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিজেডি নেতা, প্রাক্তন বিধায়ক দেবাশিস সামন্তরায়ের হাতে পুলওয়ামায় সন্ত্রাসবাদী হামলায় নিহত সিআরপিএফ জওয়ানের আত্মীয়দের নিগ্রহের একটি ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর তুমুল হইচই হয়।