নয়াদিল্লি: আমলা-নিগ্রহ কাণ্ডের প্রেক্ষিতে দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বৈজালের বাসভবনের সামনে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবালের ধর্নাকে তীব্র আক্রমণ করল কংগ্রেস ও বিজেপি।

দিল্লির প্রদেশ কংগ্রেস প্রধান অজয় মাকেনের দাবি, কেজরীবালের অহংয়ের ফলে সাধারণ মানুষকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তাঁর মতে, মুখ্যসচিব অংশু প্রকাশের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করে এই সমস্যার সমাধান করা উচিত কেজরীবালের।

দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী শীলা দীক্ষিতের মতে, কেজরীবালের নিজেকে বোঝানো উচিত, কোনটা ঠিক আর কোনটা ভুল। তিনি বলেন, দিল্লির সঙ্গে দেশের অন্যান্য কেন্দ্র-শাসিত অঞ্চলগুলির সাংবিধানিক পার্থক্য রয়েছে। কেজরীবালের তা বোঝা উচিত।

কংগ্রেসের মতোই দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করেছে বিজেপিও। দলের দিল্লি প্রধান মনোজ তিওয়ারির দাবি, ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে অ-বিজেপি, মোদী-বিরোধী জোটকে একত্রিত করতে চাইছেন কেজরীবাল।

দিল্লি বিধানসভার বিরোধী দলনেতা বিজেন্দ্র গুপ্ত, যিনি আবার মুখ্যমন্ত্রীর দফতরের সামনে আনির্দিষ্টকালের জন্য অনশনে বসেছেন, কেজরীবালকে খোলা চিঠি লেখেন। সেখানে তিনি মুখ্যমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে আর্জি করেন, রাজনৈতিক স্বার্থ ছেড়ে মন্ত্রীদের নিয়ে কাজে যোগ দিতে।

প্রসঙ্গত, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে মুখ্যসচিব অংশু প্রকাশকে মারধরের অভিযোগ ওঠে কেজরীবালের দলের বিধায়কদের বিরুদ্ধে।

আম আদমি পার্টির দাবি, এরপর থেকেই ধর্মঘট শুরু করেছেন আইএএস অফিসাররা। কোনও বৈঠকে তাঁরা অংশ নিচ্ছেন না। সরকারের কাজে সাহায্য করছেন না।

এই ইস্যুতে গত ছ’দিন ধরে দিল্লির উপরাজ্যপাল অনিল বৈজলের অফিসে ধর্নায় বসেছেন অরবিন্দ কেজরীবাল সহ কয়েকজন মন্ত্রী। তাঁদের দাবি, আমলাদের ধর্মঘট বন্ধ করার নির্দেশ দিক উপ-রাজ্যপাল।

আইএএস অফিসারদের সংগঠন অবশ্য জানিয়েছে, তাঁরা কোনও ধর্মঘট করেননি।