বেঙ্গালুরু:  কর্নাটকে বিজেপি যুব মোর্চার 'ম্যাঙ্গালুরু চলো' বাইক মিছিলে বাধা পুলিশের। বিজেপির বেশ কয়েকজন প্রথমসারির নেতাকে আটক করে পুলিশ। রাজ্যের উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের হত্যার প্রতিবাদে এই কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়েছিল। ব্যাঙ্গালুরু ফ্রিডম পার্কে ধর্ণায় বসেন রাজ্যের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী আর অশোক সহ রাজ্য বিজেপির অন্য নেতারা। অশোক পুলিশকে গ্রেফতারি পরোয়ানা দেখাতে বলেন। তা নিয়ে পুলিশের সঙ্গে বিজেপি নেতাদের বচসা বেঁধে যায়। পুলিশ বিজেপি নেতাদের ফ্রিডম পার্ক থেকে তুলে নিয়ে যায়। ফ্রিডম পার্কে এই ঘটনার জেরে এই এলাকার আশেপাশে যানজট তৈরি হয়। শহরের প্রাণকেন্দ্রের একটি মোড়ের কাছে যানজট তৈরি হওয়ায় দুর্ভোগের শিকার হন যাত্রীরা। পুলিশ এই বাইক মিছিলের অনুমতি দেয়নি। যদিও বিজেপি তাদের কর্মসূচীতে অনড় ছিল। ম্যাঙ্গালুরু পুলিশ সাম্প্রদায়িক দিক থেকে সংবেদনশীল উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে শান্তি বজায় রাখা এবং বেঙ্গালুরু পুলিশ আইন-শৃঙ্খলা ও শহরের যানজটের আশঙ্কার উল্লেখ করে মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছিল। রাজ্যের অন্যান্য স্থানেও পুলিশ মিছিলের অনুমতি দিতে অস্বীকার করেছে। বেঙ্গালুরু ও ম্যাঙ্গালুরু ছাড়াও কর্নাটকের অন্যান্য স্থানেও পুলিশ কর্তৃক বিজেপি কর্মীদের আটক করার খবর পাওয়া গিয়েছে। বিজেপির যুব মোর্চার অভিযোগ দক্ষিণ কন্নড় ও উদুপিতে ১৮ জন হিন্দুত্ববাদী কর্মীকে খুন করা হয়েছে। হিন্দুত্ববাদী কর্মীদের ওপর হিংসার ঘটনা ঘটেই চলেছে। এরই প্রতিবাদে মিছিল কর্মসূচী নিয়েছিল মোর্চা। মোর্চার অভিযোগের আঙুল পপুলার ফ্রন্ট অফ ইন্ডিয়ার মতো সংগঠনগুলির দিকে। বিজেপির ঘোষিত কর্মসূচী অনুযায়ী, রাজ্যের বিভিন্ন স্থান থেকে ম্যাঙ্গালোরের উদ্দেশে বাইক মিছিল শুরু হয়। আগামী ৭ সেপ্টেম্বরও রাজ্যের অন্যান্য স্থান থেকে এই মিছিল হওয়ার কথা। ৭ সেপ্টেম্বর ম্যাঙ্গালুরুর সভায় অংশ নেওয়ার কথা রাজ্য বিজেপি প্রধান ওয়াই এস ইয়েদুরাপ্পার। বিজেপির অভিযোগ, রাজ্যের বিভিন্ন স্থানে পুলিশ দলের কর্মীদের আটক করেছে। কোথাও কোথাও পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে বলেও দলের অভিযোগ। বিজেপি বলেছে, এই ঘটনা প্রমাণ করল যে, তাদের আন্দোলনকে ভয় পাচ্ছে রাজ্য সরকার। সেজন্য পুলিশ দিয়ে আন্দোলন ভেস্তে দিতে সচেষ্ট সরকার। পুলিশের অনুমতি না পেয়ে গতকাল রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয় বিজেপি। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া বলেন, মিছিল নিয়ে সরকারের  কোনও আপত্তি নেই। এক্ষেত্রে শুধু পুলিশকে জনজীবন ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।