নয়াদিল্লি: অনাহারে খোদ রাজধানীতে তিন শিশুর মৃত্যু নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিল কেন্দ্র। এদিন কেন্দ্রীয় খাদ্যমন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান বলেন, আমরা তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি প্রশাসন।

পূর্ব দিল্লির মান্ডাবলী এলাকায় বসবাসকারী ২, ৪ ও ৮ বছরের তিনটি বাঙালি শিশুর অনাহারে মৃত্যু হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, শিশুগুলি যে অপুষ্টিতে ভুগছিল, তা দেখেই বোঝা যাচ্ছিল। ময়নাতদন্তে জানা যায়, তাদের পাকস্থলীতে কোনও খাদ্য ছিল না। চিকিৎসকদের অনুমান, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে কিছু খায়নি শিশুগুলি।

লাল বাহাদুর শাস্ত্রী হাসপাতালের সুপার অমিতা সাক্সেনা জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যের মধ্যেই মৃত শিশুদের পোস্ট-মর্টেম হয়ে যায়। বুধবার, রিভিউয়ের অনুরোধ আসে। সেইমতো, মেডিক্যাল বোর্ড গঠন করে দ্বিতীয় পোস্ট-মর্টেম ও কেমিক্যাল টক্সিকোলজি করা হয় গুরু তেগ বাহাদুর হাসপাতালে।

সেখানে জানা যায়, মৃত শিশুদের শরীরে কোনও আঘাতের চিহ্ন ছিল না। ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞদের অনুমান, একেবারে অপুষ্টিতেই মারা গিয়েছে তিন শিশু। শরীরে কোনও চর্বি ছিল না। পাকস্থলী, ব্লাডার ও রেক্টাম একেবারে ফাঁকা ছিল। সম্ভবত, ৮-৯ দিন ধরে তাদের পেটে কোনও খাবার পড়েনি।

এদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরীবাল নেতৃত্বাধীন দিল্লির আম আদমি পার্টি (আপ) প্রশাসন ও কেন্দ্রের মধ্যে দোষারোপ-পাল্টা দোষারোপের পালা শুরু হয়ে গিয়েছে। ঘটনায় ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কেজরীবাল সরকার।

দিল্লি প্রশাসনের কয়েকজন আপ নেতা এদিন দাবি করেন, রেশন কার্ড না থাকায় নিহতদের পরিবার ভর্তুকিযুক্ত রেশন পেত না। বাড়ি-বাড়ি রেশন পৌঁছে দেওয়ার যে প্রস্তাব দিল্লি সরকার দিয়েছিল, তা আটকে দেওয়া হয়েছে।

তাদের আরও দাবি, আপ সরকারের এই প্রস্তাব কার্যকর করার অনুমতি দেননি কেন্দ্রের মনোনীত দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর। আপ-এর দাবি, ওই প্রস্তাব কার্যকর হলে আজকে ওই তিন শিশু বেঁচে থাকত।

যদিও, আপ সরকারের এই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছে কেন্দ্র। তাদের পাল্টা দাবি, কে রেশন কার্ডের অধিকারী হবেন, সেই মানদণ্ড তৈরি করে রাজ্য প্রশাসন। এমনকী, খাদ্যবণ্টনের গোটা প্রক্রিয়াটাও নিয়ন্ত্রণ করে রাজ্য। কেন্দ্রের দায়িত্ব হল, রাজ্য সরকারের গোডাউনে শস্য ঠিকমতো পৌঁছে দেওয়া পর্যন্ত।