নয়াদিল্লি: আধার তথ্য ফাঁসের ওপর খবর লেখায় সাংবাদিকের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হওয়ার পর প্রবল প্রতিবাদ, শোরগোল সত্ত্বেও সাফাই দিলেন কেন্দ্রীয় আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী রবিশঙ্কর প্রসাদ। আধার পরিচালনাকারী সংস্থা ইউআইডিএআইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে দিল্লি পুলিশ চন্ডীগড়ের দি ট্রিবিউন সংবাদপত্রের রিপোর্টার সহ ৪ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে। টাকা দিলেই আধার তথ্য পাওয়া মিলছে, এমন অভিযোগ তোলা রিপোর্টটে বেরিয়েছে ওই সংবাদপত্রেই। বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন সহ নানা মহলের দাবি, এটা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ। ইউআইডিএআই অভিযোগ ও এফআইআর তুলে নিক। আইনি ব্যবস্থার পরিবর্তে তারা সংবাদপত্রে বেরনো রিপোর্টে কী কী ভুল আছে, সেটা বরং দেখিয়ে দিক। এর মধ্যেই প্রসাদের দাবি, এফআইআরটি দায়ের হয়েছে 'অজ্ঞাতপরিচয়' লোকজনের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ভারতের উন্নয়নের স্বার্থে আধারের বৈধতা, নিরাপত্তা বহাল রাখার মতোই সরকারের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ মিডিয়ার স্বাধীনতা। এ ব্যাপারে সরকার পুরোপুরি দায়বদ্ধ। এফআইআর হয়েছে অজ্ঞাতপরিচয়দের বিরুদ্ধে। সত্যিই কেউ অপরাধ করে থাকলে সে ব্যাপারে তদন্তে যাবতীয় সহযোগিতা চেয়ে দি ট্রিবিউন ও তাদের ওই সাংবাদিককে অনুরোধ করতে বলেছি ইউআইডিএআইকে। ট্যুইট করে ইউআইডিএআই-ও বলেছে, তারা সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। আধার তথ্য ফাঁসের অভিযোগের তদন্তে সহযোগিতা চেয়ে আমরা ওই সংবাদপত্র ও তার সাংবাদিকের সঙ্গে যোগাযোগ করব। কংগ্রেস অবশ্য কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর সাফাইয়ে খুশি নয়। দলের মুখপাত্র মণীশ তেওয়ারি বলেন, কেন্দ্র 'বিরোধী মত'কে 'হত্যা' করতে চাইছে। যে সংবাদপত্র ও সাংবাদিক আধার তথ্য চুরি হয়, এটা ফাঁস করেছেন, তাদের বিচারের রাস্তায় পা দিয়ে উটপাখিসুলভ মানসিকতা দেখাচ্ছে। এটা সাংবাদিকতার ওপর আক্রমণ। লাগাতার সাংবাদিকদের ওপর আক্রমণ চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে ভীতির পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। যে সংবাদপত্র সরকারকে সাবধান করে দিতে চাইল যে, লাখ লাখ নাগরিকের ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা ক্ষুন্ন হচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে এফআইআর করে পুরস্কৃত করা হল! এটা যদি ফ্যাসিবাদ, বিরুদ্ধ মত খর্ব করা না হয়, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ব্যাপক অপব্যবহার না হয়, তবে আমার ভয় হয়, তার সংজ্ঞা সম্ভবত আমাদের জানা নেই।