নয়াদিল্লি: # বিজেপি মেঘালয়ে ঘুরপথে ক্ষমতা গ্রাস বা 'দখল করেছে', 'সুবিধাবাদী জোট' গড়তে দেদার টাকা ঢেলেছে বলে অভিযোগ করলেন রাহুল গাঁধী। উত্তরপূর্বে তিন রাজ্যের ভোটেই শোচনীয় খারাপ ফল করেছে দল। বিরোধীরা কটাক্ষ করছে, দলের এমন বিপর্যয়ের সময় তিনিই দেশে নেই, পড়ে আছেন ইতালিতে! অবশেষে নীরবতা ভেঙে উত্তরপূর্বের মানুষের দেওয়া রায় মাথা পেতে নিচ্ছেন, তাঁদের আস্থা ফিরে পেতে তিনি দায়বদ্ধ বলে জানালেন রাহুল। রাহুল ট্যুইট করেছেন, মাত্র ২টো আসন পেয়ে মেঘালয়ে ঘুরপথে ক্ষমতা দখল করল বিজেপি। মনিপুর, গোয়ার মতোই মানুষের রায়ের প্রতি চরম অসম্মান দেখাল। ক্ষমতা করায়ত্ত নেশায় মত্ত হয়ে ওরা প্রচুর পয়সা ঢেলেছে অনৈতিক সুবিধাবাদী জোট তৈরি করতে। রাহুল 'ডেমোক্র্যাসি ডিমনিটাইজড' হ্যাশট্যাগও ব্যবহার করেন বিজেপিকে নিশানা করে। ত্রিপুরায় এবার একটিও আসন পায়নি কংগ্রেস। বামেদের মতোই দশা তাদের। নাগাল্যান্ডেও কোনও আসন জোটেনি তাদের। মেঘালয়ে ২১টি আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হওয়া সত্ত্বেও বিজেপি তাদের আগেই আসরে নেমে ছোট ছোট আঞ্চলিক দলগুলিকে একজোট করে সরকার গড়ার দৌড়ে হারিয়ে দিয়েছে কংগ্রেসকে। ১০ বছর ক্ষমতায় থাকা মেঘালয় এবার তাদের হাতছাড়া হল। দলের এই হতাশাজনক ছবির মধ্যেই রাহুল ট্যুইট করেছেন, ত্রিপুরা, নাগাল্যান্ড, মেঘালয়ের মানুষের রায় সম্মান করে কংগ্রেস। আমরা গোটা উত্তরপূর্বে দলকে শক্তিশালী করে মানুষের আস্থা ফিরে পেতে দায়বদ্ধ। কংগ্রেসের প্রতিটি কর্মীকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই যাঁরা দলের জন্য ঘাম ঝরিয়েছেন। প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবারই কংগ্রেস সভাপতি হোলি উপলক্ষ্যে সপ্তাহের শেষে ইতালিতে ৯৩ বছর বয়সি দিদিমার কাছে গিয়ে তাঁকে সারপ্রাইজ দেবেন বলে জানিয়েছিলেন। কংগ্রেসের কোনও নেতাই এখনও পর্যন্ত সরকারি ভাবে দলের খারাপ পারফরম্যান্স নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খোলেননি। রাহুলকে অবশ্য বিদ্রূপ, কটূক্তি শুনতে হচ্ছে বিস্তর। ভোটের ফলপ্রকাশের দিনই অসমের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা হিমন্ত বিশ্ব শর্মা মন্তব্য করেন, ভোটের রাজনীতিতে অমিত শাহ যদি স্নাতক হন, তবে রাহুল গাঁধী নেহাতই নার্সারির ছাত্র!