পানাজি: দেশে 'অশান্ত রাজনৈতিক আবহাওয়া' রয়েছে, ভারতের গণতান্ত্রিক রীতিনীতি ও ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র বিপন্ন হতে বসেছে। গত মাসে চিঠিতে এমন মন্তব্য করে শোরগোল তোলেন দিল্লির আর্চবিশপ অনিল ক্যুটো। দিল্লির আর্চডায়োসিসের সব প্যারিসের যাজক ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে ২০১৯ এর সাধারণ নির্বাচনের আগে 'প্রার্থনা অভিযান' করতেও আবেদন করেন তিনি। এবার দেশের সংবিধান বিপন্ন, বহু মানুষ ভয়ের আবহাওয়ায় দিন কাটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করলেন গোয়া ও দমনের আর্চবিশপ ফাদার ফিলিপে নেরি ফেরারো। গোয়া, দমনের আর্চডায়োসেসের অন্তর্ভুক্ত খ্রিস্টানদের উদ্দেশ্যে লেখা চিঠিতে ভারতে মানবাধিকার আক্রান্ত, গণতন্ত্রও সঙ্কটের মুখে পড়েছে বলেও দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, বিভিন্ন সংখ্যালঘু গোষ্ঠী নিরাপত্তা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছে। সংক্ষেপে বলতে গেলে, দেশে আইন মানার প্রবণতা কমছে। ফাদার লিখেছেন, আজ আমাদের সংবিধান বিপন্ন হয়ে পড়েছে আর সে কারণেই অধিকাংশ দেশবাসী নিরাপত্তাহীন ভাবছেন নিজেদের। সাধারণ নির্বাচন দ্রুত এগিয়ে আসছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের সংবিধানকে আরও ভাল করে জানা, বুঝতে হবে, তাকে রক্ষা করতে আরও কঠোর প্রয়াস চালাতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দেশে নতুন এক প্রবণতা দেখছি যে, কী পোশাক পরব, কী খাব, কীভাবে জীবনযাপন করব, এমনকী ধর্মাচরণ করব, তা এক ছাঁচে ঢেলে ফেলতে বলা হচ্ছে। একমাত্রিক সংস্কৃতি চাপানোর চেষ্টা দেখছি। উন্নয়নের নামে জমি-জঙ্গল, ঘরবাড়ি থেকে মানুষকে উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করে পোপ ফ্রান্সিসকে উদ্ধৃত করে তিনি। বলেন, পোপও বলেছেন, উন্নয়নের প্রথম বলি হচ্ছেন গরিব মানুষ। ফাদার বলেন, গরিবের অধিকার পদদলিত করা বেশি সহজ কেননা ওদের হয়ে মুখ খোলার লোক খুবই কম। গোটা বিশ্বের বহুমাত্রিক গরিবি সূচক অনুসারে দারিদ্র্যের মধ্যে জীবন কাটানো পৃথিবীর ৩০ শতাংশ শিশুই ভারতের, এই পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি বলেন, কেন ভারতে এই চরম দারিদ্র্য? দেশের ৭৩ শতাংশ সম্পদ জনসংখ্যার ১০ শতাংশের হাতে। অতএব এই নিদারুণ দারিদ্র্য দেশে বিদ্যমান প্রবল সামাজিক অসাম্যের ফল।