নয়াদিল্লি: নরেন্দ্র মোদীর সি প্লেনে চড়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক। মঙ্গলবার সবরমতী থেকে মেহসানার ধারোই বাঁধে সি প্লেনে চেপে যান প্রধানমন্ত্রী। ভিভিআইপিদের জন্য বেঁধে দেওয়া সুরক্ষা বিধির তোয়াক্কা না করে তিনি সি প্লেনে এই সফর করেছেন বলে অভিযোগ। সূত্রের খবর, মোদী যে কোডিয়াক ১০০০ সি প্লেন বিমানে চেপেছেন, সেটি সিঙ্গল ইঞ্জিনের। কিন্তু ভিভিআইপিদের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট বিধি অনুসারে, তাঁরা শুধু মাল্টি ইঞ্জিন বিমানেই চড়তে পারেন। এক ইঞ্জিনের বিমানের তুলনায় একাধিক ইঞ্জিনবিশিষ্ট বিমান যাত্রার ক্ষেত্রে অনেক বেশি নিরাপদ। কোনও কারণে আচমকা ইঞ্জিনে চলন্ত অবস্থায় গলদ, সমস্যা হলে সিঙ্গল ইঞ্জিনওয়ালা বিমানটি জরুরি অবতরণ করতে পারবে না। কোডিয়াক টার্বো প্রপ এয়ারক্র্যাফ্টটিতে লাগানো আছে একটি ফিক্সড ল্যান্ডিং গিয়ার। এই বিমান শুধুমাত্র ১০ হাজার ফুট উচ্চতা পর্যন্ত উড়তে পারে, এতে প্রেসারাইজড কেবিন নেই, যা প্রধানমন্ত্রী সহ ভিভিআইপিদের বিমানে অবশ্যই থাকার কথা। মোদীর সফরের পরই সুরক্ষা বিধির প্রসঙ্গ তুলে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভার বিরোধী নেতা ওমর আবদুল্লা ট্যুইট করেন, সিঙ্গল ইঞ্জিন বিমান। বিদেশি পাইলট।এটা কি নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘন হচ্ছে না? এধরনের বিমানে ভিভিআইপিদের উড়তে দেওয়া হয় না। এই ফ্লাইটের জন্য নিরাপত্তা বিধি শিথিল করা হল, এর মানেটা কী? প্রধানমন্ত্রীর কথা বাদই দিন, জেড প্লাস সুরক্ষা পাওয়া কাউকেই এরকম সিঙ্গল ইঞ্জিন বিমানে চড়তে দেওয়া হয় না আমাদের দেশে। ঘটনাচক্রে ওই সি প্লেনেই ফেরার কথা মোদীর। যে রুটে সি প্লেনটি তাঁকে নিয়ে আজ উড়ল, সেটিও একেবারে নতুন রুট। সবরমতী নদী থেকে এর আগে কোনও সি প্লেনের উড়ান হয়নি। এদিনের সি প্লেনটির ব্যবস্থা করেছিল স্পাইসজেট। ভারতে সি প্লেন উড়ান চালু করা যায় কিনা, সেই সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ব্যাপারে দু মাস আগে জাপানি সংস্থা সেতাউচি হোল্ডিংসের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে। গত শনিবার সি প্লেনটিকে মুম্বই এয়ারপোর্ট থেকে উড়িয়ে গিরগাম চৌপট্টিতে নিয়ে আসা হয়। শুধু মোদী নন, অতীতে নিরাপত্তা বিধি না মেনে চলাফেরার অভিযোগ উঠেছে রাহুল গাঁধীর বিরুদ্ধেও।