নয়াদিল্লি: তিস হাজারি আদালত চত্বরের একটি বিশেষ আদালতে  গত সপ্তাহে তখন দুর্নীতি সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানি চলছে। লাইভ ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কলকাতা থেকে সিবিআইয়ের এক সাক্ষীর বয়ান নথিভুক্তির কাজ চলছে।  সেই সময়ই হঠাত্ করে উঠে দাঁড়ালেন আদালতের কর্মী স্টেনোগ্রাফার। বললেন, বাইরে ট্যাক্সি অপেক্ষা করছে। এ কথা বলেই আদালত কক্ষ ছাড়লেন তিনি। গত সপ্তাহে এই অদ্ভূত  ঘটনা ঘটেছে। ওই মহিলা স্টেনোগ্রাফারের এ ধরনের আচরণে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন বিচারক। তিনি কঠোর ভাষায় এর নিন্দা করে বলেছেন, ওই স্টেনোগ্রাফারের আচরণ 'বিচারক পদের অমর্যাদা' ঘটিয়েছে এবং 'আদালতের কর্তৃত্বকে'ও খাটো করেছে।  বিচারক বলেছেন, ওই স্টেনোগ্রাফার যে কাজ করেছেন তার বিচারপ্রক্রিয়াকে 'হাইজ্যাক' করার সামিল। বিচারক বলেছেন, বিচারপ্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটিয়েছেন ওই কর্মী। তিনি হঠাত্ করে চলে যাওয়ায় মামলার প্রিসাইডিং অফিসার ও আইনজীবীদের দীর্ঘক্ষণ অন্য এক স্টেনোগ্রাফার না আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। বিচারক তাঁর লিখিত নির্দেশে বলেছেন, অন্য একজন স্টেনোগ্রাফার না আসা পর্যন্ত আদালতকে ৫১০ মিনিট অপেক্ষা করতে হয়। জানা গেছে,  তাঁর ট্যাক্সি অপেক্ষা করছে বলে বিকেল ৪.২৫ নাগাদ ওই স্টেনোগ্রাফার আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান। বিচারক তাঁকে মনে করিয়ে দেন, আদালতের সময় এখনও শেষ হয়নি। এর জবাবে ওই স্টেনোগ্রাফার বলেন, সুপারিনটেন্ডেন্টের অফিসে হাজিরা খাতায় সই করতে করতে পাঁচটা বেজে যাবে। বিচারক তাঁকে সতর্ক করে দেন। তাঁকে আদালতের অন্যান্য আধিকারিকরাও সতর্ক করেন। কিন্তু কোনও কিছুতেই কর্ণপাত করেননি তিনি। আদালত কক্ষেই তর্ক জুড়ে দেন তিনি। ওই স্টেনোগ্রাফার বলেন, তাঁর ডান হাতে ব্যাথা করছে। সাক্ষীর বয়ান রেকর্ডের সময়ই তিনি এ কথা জানিয়েছিলেন। তবে আদালত কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই ফিরে আসেন ওই স্টেনোগ্রাফার। কিন্তু বিচারক তাঁকে আর বিচারপ্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের অনুমতি দেননি। সমগ্র পরিস্থিতি সম্পর্কে আদালতের প্রশাসনিক আধিকারিকদের জানায় আদালত। স্টেনোগ্রাফারের আচরণকে 'কর্তব্যচ্যূতি'র সামিল বলে মন্তব্য করেছেন বিচারক।ওই কর্মীর বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি ডিস্ট্রিক্ট অ্যান্ড সেসনস জাজ (হেডকোয়ার্টার)-এর  কাছে পাঠিয়েছেন বিচারক।