নয়াদিল্লি: সমাজকর্মী তিস্তা শেতলবাদ ও তাঁর স্বামী জাভেদ আনন্দের বন্ধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা নিয়ে আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গাপীড়িতদের জন্য তিস্তার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা যে অর্থ পেয়েছিল, সেই তহবিল নয়ছয় করার অভিযোগে ২০১৫ সালের ৭ অক্টোবর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তিস্তা, জাভেদ ও দু’টি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা সবরঙ্গ ট্রাস্ট ও সিটিজেন্স ফর জাস্টিস অ্যান্ড পিস গুজরাত হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানান। তবে প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্র ও বিচারপতি এ এম খানবিলকরের বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। গুজরাত সরকারের অভিযোগ ছিল, দাঙ্গাবিধ্বস্ত মানুষকে সাহায্য করার নামে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থ মদ্যপান, খাওয়া-দাওয়া, সিনেমা দেখা, ব্ল্যাকবেরি ফোন সহ ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কেনার জন্য ব্যবহার করেন তিস্তা ও তাঁর স্বামী। তাঁরা অবশ্য সেই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, সেটা সরকারের নয়। তাছাড়া কেউ প্রতারণার অভিযোগ করেননি। কিন্তু গুলবার্গ সোসাইটির এক বাসিন্দা ফিরোজ খান পঠান অভিযোগ করেন, ২০০২ গুজরাত দাঙ্গায় নিহত ৬৯ জনের স্মৃতিতে একটি সংগ্রহশালা তৈরি করার জন্য অর্থ সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু সেই টাকা সংগ্রহশালা তৈরির কাজে লাগানো হয়নি। আমদাবাদ পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, গুলবার্গ সোসাইটিতে সংগ্রহশালা তৈরি করার জন্য ১.৫১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হলেও, সেটা সেই কাজে লাগানো হয়নি। এরপরেই তিস্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়। নিম্ন আদালতের রায় বহাল রাখে গুজরাত হাইকোর্ট। এ বছরের ৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টও রায় স্থগিত রেখে তিস্তাদের অ্যাকাউন্টে থাকা অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলে। উপযুক্ত জবাব না পাওয়াতেই অ্যাকাউন্ট খোলার আর্জি খারিজ করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।