মহারাষ্ট্রে ফের আত্মহত্যা চাষির, মুখ্যমন্ত্রী আসুন, দাবি মানুন, নইলে দাহ কোরো না দেহ, সুইসাইড নোটে আর্জি
Web Desk, ABP Ananda | 08 Jun 2017 04:03 PM (IST)
পুনে: মহারাষ্ট্রে চলতি কৃষক বিক্ষোভ, আন্দোলনের মধ্যেই ক্ষমতাসীন বিজেপিকে প্রবল অস্বস্তিতে ফেলে পরপর আত্মহত্যা বেশ কয়েকজন চাষির। সর্বশেষ গতকাল রাতে সোলাপুর জেলায় কারমালা তহসিলের ভিত গ্রামে নিজের বাড়ির সামনে গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মঘাতী হয়েছেন ধানাজি যাদব। ৪৫ বছর বয়সি ওই চাষি সুইসাইড নোটে বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজনদের উদ্দেশ্যে লিখেছেন, আত্মহত্যা করছি আজ। আমার দেহ গ্রামে নিয়ে যেও, মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফঢ়নবিশকে এখানে এসে কৃষকদের ঋণ মকুবের ঘোষণা করতে হবে। দাবি মানতে হবে। যতক্ষণ তা না হচ্ছে, দেহ দাহ কোরো না। অকালে চলে যাওয়া ধানাজির পরিবারে আছেন তাঁর স্ত্রী, দুটি সন্তান। তিনিই ছিলেন বাড়ির বড় ছেলে। আড়াই একর চাষের জমি ছিল তাঁর। প্রায় ৬০ হাজার টাকার দেনা ছিল। মহাজনদের কাছ থেকেও ঋণ নিয়েছিলেন। এ ঘটনার জেরে কৃষক সংগঠনগুলি রাস্তা রোকো কর্মসূচিতে নামে। কারমালা তহসিলে বনধও ডাকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া রুখতে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয় পুলিশ টিম। প্রসঙ্গত, গত এক সপ্তাহ ধরে মহারাষ্ট্রজুড়ে কৃষকদের লাগাতার প্রতিবাদ কর্মসূচি চলছে। ক্রমশ দাম চড়ছে কৃষিজাত নানা পণ্যের। বিরোধীরা তো বটেই, শরিক শিবসেনাও সুর চড়াচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে। ফঢ়নবিশ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ঋণ মকুব ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও শান্ত করা যায়নি কৃষকদের। তারা আন্দোলনে অটল। গত কয়েকদিনে গলায় দড়ির ফাঁস লাগিয়ে বা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন আরও অন্তত চার কৃষক। এঁরা হলেন রমেশ রামদাস দলভি, পরমেশ্বর ওয়াংখেড়ে, সঞ্জয় ঘানোয়াট, নভনাথ চাংদেব ভালেরাও। এদিকে কৃষকরা হরতালে নামতে বাধ্য হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেতা নানা পটেকর, মকরন্দ আনাসপুরেও। তাঁদের দাবি, স্বামীনাথন কমিটির সুপারিশগুলি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে রূপায়ণ করতে হবে। অভাবী চাষিদের জন্য ঋণ মকুব করা হোক।