কাচের গুঁড়োর মাঞ্জা দেওয়া ঘুড়ির সুতোয় গলা কেটে মৃত্যু বাইক আরোহীর
ABP Ananda, web desk | 09 Jul 2016 02:09 AM (IST)
গাজিয়াবাদ: ঘুড়ির সুতো যে এমন প্রাণঘাতী হতে পারে, কে তা ভেবেছিল! ঘুড়ির সুতো গলায় জড়িয়ে গিয়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হল ৫২ বছরের এক প্রৌঢ়ের। শুক্রবার বিকেলে ছুরির মতো ধারাল ঘুড়ির সুতো জড়িয়ে তাঁর গলা কার্যত দুই টুকরো হয়ে যায়। গাজিয়াবাদের ঠাকুরদ্বারা উড়ালপুল দিয়ে বাইকে চড়ে সিকান্দারাবাদ থেকে দিল্লিতে নিজের বাড়ি ফিরছিলেন যোগেশ শর্মা নামে ওই ব্যক্তি। পুলিশ জানিয়েছে, সম্পত্তি কেনাবেচার ব্যবসায়ী যোগেশের বাড়ি দিল্লির মউজপুরা এলাকায়। পৌনে ছটা নাগাদ উড়ালপুল দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই তাঁর গলায় শক্ত করে জড়িয়ে যায় ঘুড়ির সুতো। সুতোর ফাঁস লাগানো অবস্থাতেই কয়েক মিটার এগিয়ে যায় তাঁর গাড়ি। শেষপর্যন্ত বাইক থেকে পড়ে যান তিনি। এক প্রত্যক্ষদর্শী জানিয়েছেন, যোগেশের গলায় সুতো জড়ানো ছিল। গলা থেকে গলগল করে রক্ত পড়ছিল। ওই প্রত্যক্ষদর্শীই সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ যোগেশকে এমএমজি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়। পুলিশের কাছ থেকে খবর পেয়ে ছুটে আসেন যোগেশের পরিবারের লোকজন। এভাবে কারুর মৃত্যু হতে পারে বলে তাঁরা বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না। যোগেশের এক শোকার্ত ভাই রাকেশ বলেছেন, এটা কী ধরনের মৃত্যু? একেবারেই মানতে পারছি না। ও এতই রক্তাক্ত ছিল যে ওর শরীরের দিকে এক সেকেন্ডের বেশি তাকাতে পারিনি। চিকিত্সক জিতেন্দ্র ত্যাগী জানিয়েছেন, মৃতের শ্বাসনালী ও গলার ধমনী দুটুকরো হয়ে গিয়েছে। প্রচুর রক্তপাত হয়েছে। হাসপাতালে নিয়ে আসার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মোদীনগরের এক ঘুড়ি ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, ঘুড়িতে সাধারণত তুলোর সুতো ব্যবহার করা হয়।এই সুতো খুবই দুর্বল। সামান্য টানেই এই সুতো ছিঁড়ে যায়। কিন্তু এখন চিনা সুতোর প্রচলন হয়েছে, যা নাইলনে তৈরি। এই সুতো সহজে ছেঁড়ে না। আর এতে মাঞ্জা দিতে কাচের গুড়ো ব্যবহার করলে তা আরও মারাত্মক হয়ে ওঠে।সুতো খুব ধারালো হয়ে ওঠে এবং অনেক সময় পাখি, এমনকি যিনি ঘুড়ি ওড়াচ্ছেন, তাঁকেও জখম করে। সারা দেশেই বিভিন্ন প্রাণহাণি ও জখম হওয়ার ঘটনা প্রকাশ্য আসার পর এই ধরনের সুতোর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তরপ্রদেশের গাজিয়াবাদ জেলা প্রশাসন সূত্রের খবর, সাত মাস আগে ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য চিনা সুতোর ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছিল। এখন মনে করা হচ্ছে যে, ওই নিষেধাজ্ঞা ঠিকমতো বলবত্ হয়নি। এই ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যোগেশের মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে।