ডিটেনশন ক্যাম্পে ঠাঁই হওয়া ‘বিদেশি’ চিহ্নিত প্রাক্তন সেনাকর্মীকে জামিন মঞ্জুর গুয়াহাটি হাইকোর্টের
Web Desk, ABP Ananda | 07 Jun 2019 08:16 PM (IST)
কামরূপের বাসিন্দা ওই প্রাক্তন সেনা অফিসার জেলার পুলিশ সুপারের অনুমতি ছাড়া জেলা ছেড়ে কোথাও যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছে বেঞ্চ, পাশাপাশি ভারত সরকার, অসম সরকার ও বোকো এলাকার বিদেশি নির্ধারণের ট্রাইব্যুনাল সহ সব পক্ষকে নোটিশও দিয়েছে।
গুয়াহাটি: কার্গিল যুদ্ধে অংশ নেওয়া মহম্মদ সানাউল্লাহ নামে যে প্রবীণ সেনাকর্মীকে ‘বিদেশি’ তকমা দিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে পাঠিয়েছে অসমের ট্রাইব্যুনাল, শুক্রবার তাঁকে জামিন দিল গুয়াহাটি হাইকোর্ট। তিনি সেনায় সুবেদার পদে ছিলেন। বিচারপতি মনোজিত ভুঁইঞা ও বিচারপতি প্রশান্ত কুমার ডেকার ডিভিশন বেঞ্চ আলোচনামূলক আবেদন সমেত একটি রিট পিটিশনের শুনানির পর ২০ হাজার টাকা করে দুজন স্থানীয় জামিনদারের বিনিময়ে সানাউল্লাহকে জামিন মঞ্জুর করে। তবে কামরূপের বাসিন্দা ওই প্রাক্তন সেনা অফিসার জেলার পুলিশ সুপারের অনুমতি ছাড়া অন্য কোথাও যেতে পারবেন না বলে জানিয়েছে বেঞ্চ, পাশাপাশি ভারত সরকার, অসম সরকার ও বোকো এলাকার বিদেশি নির্ধারণ ট্রাইব্যুনাল সহ সব পক্ষকে নোটিশও দিয়েছে। তাঁকে ‘বিদেশি’ তকমা দেওয়া তদন্ত রিপোর্টটি তৈরি করা অসমের সরকারি অফিসার চন্দ্রমল দাশকেও নোটিস দেওয়া হয়েছে। সম্ভবত, সানাউল্লাহ শনিবার ডিটেনশন ক্যাম্প থেকে ছাড়া পাবেন। ট্রাইব্যুনালের ২৩ মে-র যে রায়ে সানাউল্লাহকে বিদেশি বলে ঘোষণা করা হয়, তাকে চ্যালেঞ্জ করে আলোচনামূলক আবেদন সহ রিট পিটিশন দাখিল করেছিলেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। সানাউল্লাহকে গোয়ালপাড়ার ডিটেনশন সেন্টারে পাঠানো হয়। গত বছর প্রকাশিত জাতীয় নাগরিকপঞ্জির সম্পূর্ণ খসড়ায় যে ৪০ লক্ষ মানুষের নাম ওঠেনি, তাঁদেরই একজন সানাউল্লাহ। ৩০ বছর কাজ করার পর ২০১৭-য় সেনাবাহিনী থেকে অবসর নেওয়া এই অফিসার ২০১৪-য় রাষ্ট্রপতির মেডেল পেয়েছিলেন। কামরূপের বোকো এলাকার কোলোহিকাশ গ্রামের বাসিন্দা তিনি। বিদেশি চিহ্নিত হয়ে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার আগে অসম বর্ডার পুলিশের সাব ইনস্পেক্টর পদে কর্মরত ছিলেন সানাউল্লাহ। আদালতে তাঁর হয়ে সওয়াল করেন সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী ইন্দিরা জয়সিংহ। প্রসঙ্গত, সানাউল্লাহর কেস রিপোর্টে যে তিনজন সই করেছিলেন বলে অভিযোগ, তাঁদের সবার দাবি, এই মামলায় কোনও তদন্তই হয়নি। সাজানো তদন্ত রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তাঁরা। কালিয়াবোর লোকসভা কেন্দ্রে ফের জয়ী কংগ্রেস এমপি গৌরব গগৈ গতকাল কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে সানাউল্লাহ যাতে ন্যয়বিচার পান, তা সুনিশ্চিত করার দাবি করেন। যে পুলিশ অফিসাররা সানাউল্লাহর নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখেছেন, তাঁদের দক্ষতা, যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের তদন্ত করতে বলেন গগৈ। ওই পুলিশকর্তারা নথিপত্র পরীক্ষা করে দেখার পর সানাউল্লাহকে বিদেশি তকমা দেয় বিদেশি চিহ্নিতকরণ ট্রাইব্যুনাল। গগৈয়ের দাবি, যে পুলিশ অফিসাররা দায়সারা ভাবে কাজ করেছেন বলে অভিযোগ, তদন্ত করে দেখার পর তাঁদের দায়িত্ব পালন থেকে অব্যাহতি দিতে হবে। গগৈ বলেছেন, সানাউল্লাহর সশস্ত্র বাহিনীতে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করাটা তাঁর দেশপ্রেম ও ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ। আমরা আন্তরিক ভাবে কামনা করি, প্রবীণ ওই সেনাকর্মী হেনস্থা থেকে রেহাই পাবেন।