নয়াদিল্লি: ধর্ষণ সহ যৌন নিগ্রহের শিকার বাচ্চা ছেলেদেরও ন্যয় বিচার দিতে চায় সরকার। এজন্য শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন রোধ সংক্রান্ত পকসো আইনে সংশোধনের কথা ভাবা হচ্ছে বলে জানাল সরকার। কয়েকদিন আগেই ১২-র কমবয়সি মেয়েদের ধর্ষণে দোষীদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের আনা অর্ডিন্যান্সে সম্মতি দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। আজ সরকারি ট্যুইটার হ্যান্ডলে বলা হয়েছে, সরকার সবসময়ই লিঙ্গ নিরপেক্ষ আইন তৈরির জন্য চেষ্টা করেছে। সরকারের প্রস্তাব, ছেলে বা মেয়ে, যৌন নির্যাতনের শিকার সব বাচ্চাকেই ন্যয়বিচার দিতে পকসো আইনে বদল করা হোক। সম্প্রতি বাচ্চা ছেলেদের ওপর যৌন নিগ্রহের ব্যাপারে অনলাইনে একটি পিটিশন পোস্ট করেছেন সমাজকর্মী তথা চলচ্চিত্র পরিচালক ইনসিয়া দারিওয়ালা। তাঁর মতে, শিশুপুত্রদের ওপর যৌন অত্যাচার এক নির্মম বাস্তব। যদিও ভারতে এদিকে তেমন নজরই দেওয়া হয় না। এই প্রেক্ষাপটে ভারতে যৌন নিগৃহীত বাচ্চা ছেলেদের ওপর প্রথম একটি সমীক্ষা করা হচ্ছে জানান কেন্দ্রীয় মহিলা ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মানেকা গাঁধী। তিনিও বলেন, ভারতে শিশু যৌন নির্যাতনের আরেকটি উপেক্ষিত দিক হল এর শিকার হওয়া বাচ্চা ছেলেরা। শিশুদের ওপর যৌন নির্যাতন লিঙ্গ নিরপেক্ষ ব্যাপার। কলঙ্কের ভয় মাথায় নিয়ে সারা জীবন মুখ বুজে থাকে সেইসব পুরুষ যারা কৈশোরে ধর্ষিত হয়েছে। এটা গুরুতর সমস্যা যা খতিয়ে দেখা উচিত। ওই পিটিশনের পর ২০১৭-র সেপ্টেম্বরেই তিনি এ ব্যাপারে ন্যাশনাল কমিশন ফর প্রটেকশন ফর চাইল্ড রাইটস সংস্থাকে নজর দিতে বলেছিলেন বলে জানান মানেকা। গত নভেম্বরে এ ব্যাপারে একটি সম্মেলনও করে তারা। সেখান থেকে সর্বসম্মতির ভিত্তিতে সুপারিশ করা হয় পকসো আইনে বদল করতে হবে যাতে শৈশবে, কৈশোরে ধর্ষণ, যৌন নির্যাতনের শিকার ছেলেদেরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া যায়। প্রসঙ্গত, ফৌজদারি আইন সংশোধন অর্ডিন্যান্স, ২০১৮ অনুসারে শিশু ধর্ষণ মামলার বিচারে ফাস্ট ট্রাক আদালত গঠন করা হবে। সব থানা ও হাসপাতালকে আগামী দিনে ধর্ষণ মামলার ব্যাপারে বিশেষ ফরেনসিক কিটও দেওয়া হবে।