আমদাবাদ: ২০০২ সালের নারোদা পাতিয়া দাঙ্গা মামলায় গুজরাতের প্রাক্তন মন্ত্রী মায়া কোদনানিকে অব্যাহতি দিল গুজরাত হাইকোর্ট। বিচারপতি হর্ষ দেবানি ও বিচারপতি এ এস সুপেহিয়ার ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, সাক্ষীদের বয়ানে অসঙ্গতির দরুণ মায়াকে অবশ্যই বেনিফিট অব ডাউট অর্থাত্ সন্দেহের অবকাশের জন্য ছাড় দেওয়া উচিত। তবে এই মামলায় প্রাক্তন বজরং দল নেতা বাবু বজরঙ্গিকে দোষী সাব্যস্ত করে দেওয়া আগের রায় বহাল রেখেছে আদালত। নারোদা পাতিয়ার হিংসায় মারমুখী জনতার হামলায় ৯৭ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন। গোধরা পরবর্তী একাধিক ভয়াবহ হিংসার অন্যতম নারোদা পাতিয়ার ঘটনা। নিম্ন আদালত বলেছিল, এতে 'কিংপিনে'র ভূমিকা ছিল মায়ার। বজরঙ্গিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছিল নিম্ন আদালত। হাইকোর্ট এদিন অন্য দুজন দোষী প্রকাশ রাঠোর ও সুরেশ ঝালার পাশাপাশি বজরঙ্গিকেও ফৌজদারি চক্রান্তে (ভারতীয় দণ্ডবিধি ১২০ বি ধারা) অপরাধী সাব্যস্ত করে দোষী ঘোষণার রায় বহাল রাখে। কিন্তু তার শাস্তির মাত্রা কমিয়ে ২১ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ঘোষণা করেন বিচারপতিরা। এই সাজায় কোনও ছাড় মিলবে না। এদিন বেঞ্চ দাঙ্গা মামলায় পেশ হওয়া একগুচ্ছ আবেদনের ওপর রায় দেয় হাইকোর্ট। নিম্ন আদালত মোট ৩২ জনকে দোষী বলেছিল, যাদের একজনের মৃত্যু হয়েছে। হাইকোর্ট ২৯ জন দোষীর মধ্যে ১২ জনের দোষী ঘোষণার রায় বহাল রাখে, মায়া সহ ১৭ জনকে রেহাই দেয়। গুজরাত সরকার দোষীদের সাজার মেয়াদ বৃদ্ধির আবেদন করেছিল। কিন্তু হাইকোর্ট রাজ্য সরকারের প্রবল সমালোচনা করে। বিচারপতিরা বলেন, অভিযুক্তরা জামিনে ছাড়া পেলে তখন রাজ্য সরকার আপত্তি করেনি, কিন্তু এখন সাজা বাড়ানোর কথা বলছে! আপনারা শুধু মুখেই বড় বড় কথা বলেন। ২০১২-র আগস্টে সিট মামলার জন্য গঠিত বিশেষ আদালত মায়া সহ ৩২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়। মায়ার ২৮ বছর জেল হয়। নরেন্দ্র মোদী যখন গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী, তখন তাঁর সরকারের মন্ত্রী ছিলেন মায়া। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন, বজরঙ্গি আছেন জেলে।