নয়াদিল্লি: ছেলের ‘কুকীর্তি’র জন্য হরিয়ানা বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুভাষ বারালার ইস্তফা দাবি দলের ভিতরেই।

সুভাষের ছেলে বিকাশ বারালার বিরুদ্ধে এক বন্ধুকে সঙ্গে নিয়ে কয়েকদিন আগে রাতে গাড়িতে হরিয়ানার এক আইএএস অফিসারের মেয়ের গাড়ির পিছু নিয়ে হেনস্থার অভিযোগ উঠেছে। বর্ণিকা কুণ্ডু নামে পেশায় ডিজে ওই মেয়েটির পিছু নিয়ে উত্যক্ত করার অভিযোগে বিকাশকে গ্রেফতার করেও জামিনে ছেড়ে দেওয়া হয়।

হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টার গতকালই সুভাষ বারালার রাজ্য বিজেপি প্রধানের পদ থেকে ইস্তফার দাবি খারিজ করে দেন। আইএএস অফিসারের মেয়েকে হেনস্থার ঘটনার সঙ্গে তাঁর কোনও যোগ নেই, এটা স্রেফ একজন ব্যক্তির ব্যাপার, অভিযুক্ত দোষী প্রমাণিত হলে আইন মতোই ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাতে ক্ষোভ দূর হচ্ছে না।

খাট্টারের উল্টো সুরে কুরুক্ষেত্রের বিজেপি সাংসদ রাজকুমার সাইনি নৈতিক কারণেই সুভাষ বারালার সরে যাওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বর্ণিকার প্রশংসা করেন এই বলে যে, ৯০ শতাংশ মেয়ে তাদের যন্ত্রণার কথা প্রকাশ্যে বলতে সাহস করে এগিয়ে আসে না। এই মেয়েটি সাহস দেখিয়েছে। ওকে রক্ষা না করাটা আমাদের ভুল হবে।

সাইনি নিজের দলের রাজ্য সভাপতিকে কাঠগড়ায় তুলে এও বলেন, কোনও নেতা মহিলা সুরক্ষার ব্যাপারে নিজের পরিবারকে সচেতন করতে না পারলে জনজীবন থেকে সরে যাওয়া উচিত। মদ্যপ অবস্থায় একটি মেয়ের পিছু নিয়েছিল বিকাশ বারালা, এটা অপরাধ।

কেন্দ্র ও রাজ্যে বিজেপি সরকার যখন মহিলা উন্নয়নে কাজ করছে, তখন ঘটনাটি তার বেটি পড়াও, বেটি পড়াও কর্মসূচিকেই উপহাস করছে বলে ক্ষোভ উগরে দেন সাইনি। বলেন, পার্টি নেতৃত্বের নির্দেশের অপেক্ষা না করে এখনই সুভাষ বারালার ইস্তফা দেওয়া উচিত। বেটা বাঁচাও অভিযান চলছে রাজ্য়ে, প্রশ্ন করেন তিনি।

কংগ্রেস আজ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের বিরুদ্ধে ঘটনাটি চেপে যাওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেস নেতা রণদীপ সিংহ সুরজেওয়ালার তোপ, এটা অত্যন্ত স্পষ্ট যে, বিজেপি দলীয় নেতার ছেলেকে বাঁচাতে চন্ডীগড় প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। মাতাল ছেলেটি সাত কিলোমিটার রাস্তা মেয়েটির পিছু নিয়েছিল, তাঁর গাড়ির রাস্তা আটকে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করেছিল, এটা অপহরণ, একজন মহিলার শ্লীলতাহানি নয়? কেন এসব অভিযোগ নথিভুক্ত করা হল না? প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রীর দেশবাসীকে এসব প্রশ্নের জবাব দিতে হবে।

পাশাপাশি ঘটনাস্থলে সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি অচল থাকার ফুটেজ মেলেনি বলে পুলিশের দাবির পিছনেও ষড়যন্ত্র আছে বলে দাবি করে কংগ্রেসের অভিযোগ, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে চাইছে। সুরজেওয়ালার প্রশ্ন, কেন এফআইআর লঘু করে দেওয়া হল। যৌন নিগ্রহ শব্দটাই পুলিশ রিপোর্টে নেই! সিসিটিভি ক্যামেরাগুলি কেন কাজ করা বন্ধ করে দিল। নিজেদের নেতাকে আড়াল করতে চাইছে বিজেপি।

সিপিআইয়ের জাতীয় সম্পাদক ডি রাজার মন্তব্য, বোনেদের দেওয়া রাখি পরছেন, কিন্তু হরিয়ানার যে মেয়েটি তাঁকে রাতে চন্ডীগড়ের রাস্তায় গাড়ি নিয়ে পিছু ধাওয়ার অভিযোগ এনেছেন বিজেপি নেতার ছেলের বিরুদ্ধে, তাঁকে সমবেদনা জানিয়ে তো একটা শব্দও খরচ করলেন না প্রধানমন্ত্রী! এ ঘটনায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক ও হরিয়ানার মুখ্যমন্ত্রী মনোহরলাল খাট্টারের 'নীরবতা'কেও আক্রমণ করেন রাজা। বলেন, মুখ্যমন্ত্রী একটি কথাও বলেননি। এই নীরবতা লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন রাজা।