ভুবনেশ্বর: ভক্তদের কাছ থেকে কোনওরকম অনুদান বা প্রণামী নেওয়া চলবে না। সেবায়েতদের এমনই নির্দেশ দিল পুরীর জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ। যাঁরা পুজো দিতে যান, তাঁদের উপর জোরজুলুমের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ওড়িশা সরকারকে উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি আদর্শ কুমার গোয়েল ও বিচারপতি অশোক ভূষণের অবকাশকালীন বেঞ্চ বলেছে, পুরীর জগন্নাথ মন্দিরে পুণ্যার্থীরা যাতে কোনওরকম সমস্যা ছাড়াই পুজো দিতে পারেন এবং তাঁদের দেওয়া অর্থের অপব্যবহার না হয়, সেটা দেখা প্রাথমিক কর্তব্য। জম্মু ও কাশ্মীরের বৈষ্ণো দেবী মন্দির, গুজরাতের সোমনাথ মন্দির, পঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির, অন্ধ্রপ্রদেশের তিরুপতি মন্দির ও কর্ণাটকের ধর্মস্থল মন্দিরের পরিচালন ব্যবস্থা দেখতে হবে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের পরেই এক বিজ্ঞপ্তি জারি করে মন্দির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেবকরা ভক্তদের কাছ থেকে কোনওরকম টাকা নিতে পারবেন না। ভক্তদেরও প্রণামী বা অনুদান সেবকদের হাতে না দিয়ে হুন্ডি, মন্দিরের প্রধান দফতর, শাখা বা তথ্য কেন্দ্রে জমা দিয়ে রশিদ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। শ্রী জগন্নাথ টেম্পল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এসজেটিএ) প্রধান প্রশাসক পি কে জেনা বলেছেন, ‘সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ আইন। সবরাই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে চলা উচিত। আমরা সবাইকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মানার অনুরোধ জানাচ্ছি।’ ওড়িশার আইনমন্ত্রী প্রতাপ জেনা বলেছেন, ‘রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ খতিয়ে দেখবে। আমরা এই নির্দেশ মেনে নেব।’ সেবায়েতদের একাংশ অবশ্য সুপ্রিম কোর্টের এই নির্দেশে অখুশি। তাঁদের দাবি, ভক্তদের দেওয়া প্রণামী বা অনুদানের অর্থই বেশিরভাগ সেবায়েতের একমাত্র আয়ের উৎস। সেটা বন্ধ হয়ে গেলে তাঁরা সমস্যায় পড়বেন। প্রবীণ সেবায়েত রামক্রুষ্ণ দাসমহাপাত্র বলেছেন, ‘অনেক সেবায়েতেরই সংসার চলে মন্দির থেকে পাওয়া অর্থে। যদি ভক্তরা প্রণামী না দেন, তাহলে সেবায়েতরা সমস্যায় পড়তে পারেন। আমরা ভক্তদের কাছ থেকে সেবায়েতদের নির্দিষ্ট পরিমাণে অর্থ দাবি করার বিরোধী। কিন্তু কেউ স্বেচ্ছায় টাকা দিলে কী করা যাবে?’