কলকাতা ও নয়াদিল্লি: কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সিএস কারনানের কোনও নির্দেশই আর গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার জানিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এদিন বিচারপতি কারনানের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে চলা মামলার শুনানি ছিল সর্বোচ্চ আদালতে। অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি আদালতকে জানান, বিচারপতি কারনান বাড়িতেই আদালত বসিয়ে একের পর এক নির্দেশ ঘোষণা করছেন। এরপরেই প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের বেঞ্চ নির্দেশ দেয়, ৮ ফেব্রুয়ারির পর থেকে দেশের সব আদালত, ট্রাইবুনাল ও কমিশন বিচারপতি কারনানের কোনও নির্দেশ যেন কার্যকার না করে। যদিও সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশ আইনসম্মত নয় বলে কলকাতায় পাল্টা দাবি করেছেন কারনান। বলেন, অভিযুক্ত বিচারপতি, তারা কি করে আমার নির্দেশ গ্রহণযোগ্য নয় বলে রায় দিতে পারেন, কারণ তাদের বিরুদদ্ধেই দুর্নীতির সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিলাম আমি। দলিত বলে আমার ওপর অত্যাচার করা হচ্ছে। এর আগে প্রশাসনিক ও বিচারবিভাগীয় ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন জানান তিনি। অন্যদিকে, শুধু কারনানের নির্দেশ কার্যকর না করার কথাই নয়, এদিন, সরকারি হাসপাতালে মেডিক্যাল বোর্ড তৈরি করে তাঁর স্বাস্থ্যপরীক্ষার করানোর দায়িত্ব রাজ্য পুলিশের ডিজিকে দেয় সর্বোচ্চ আদালত। এজন্য রাজ্যের ডিজি, পদস্থ অফিসারদের একটি বিশেষ দলও গঠন করতে পারবেন। সর্বোচ্চ আদালতের এই নির্দেশের প্রেক্ষিতেও প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন বিচারপতি কারনান। বলেন, দিল্লির ডিজিকে নির্দেশ দিচ্ছি যারা এই রায় দিয়েছে, তাদের স্বাস্থ্যপরীক্ষা করানোর জন্য। একইসঙ্গে রাজ্য পুলিশের ডিজি বা কোনও চিকিৎসক স্বাস্থ্যপরীক্ষা করতে এলে তিনি তাঁদের ছেড়ে কথা বলবেন না বলেও হুমকি দিয়েছেন। বলেন, ডিজি যদি আসে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। সুয়োমোটো সাসপেন্ড করব। যদিও, ৮ই মে বা তার আগে কারনানের মেডিক্যাল রিপোর্ট জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মামলার পরবর্তী শুনানি ৯ মে।