কাসগঞ্জের সাম্প্রতিক গোষ্ঠী সংঘর্ষ উত্তরপ্রদেশের 'কলঙ্ক', পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে ব্যবস্থা নিক রাজ্য, বললেন রাজ্যপাল
Web Desk, ABP Ananda | 29 Jan 2018 06:20 PM (IST)
লখনউ: কাসগঞ্জের সাম্প্রতিক গোষ্ঠী সংঘর্ষকে রাজ্যের 'কলঙ্ক' বললেন উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল রাম নায়েক। তাঁর মন্তব্য নিঃসন্দেহে ক্ষমতাসীন যোগী আদিত্যনাথ সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলবে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে রাজ্য প্রশাসনকে উদ্যোগী হতে বলেছেন নায়েক। তিনি বলেছেন, গত ৯-১০ মাসে এই প্রথম রাজ্যে এমন লজ্জাজনক ঘটনা ঘটল। কাসগঞ্জে যা হয়েছে, তা শুভ নয়। উত্তরপ্রদেশের কাছে এটা লজ্জার, কলঙ্কের। সরকার তদন্ত করছে। আগামীদিনে যাতে এমন ফের না ঘটে, সেজন্য কার্যকর পদক্ষেপের সূচনা করা উচিত সরকারের। কাসগঞ্জের জেলা প্রশাসনের দাবি, পরিস্থিতি ক্রমশ স্বাভাবিক হচ্ছে। গতকাল পর্যন্ত মোট ১২২ জনকে অশান্তিতে জড়িত থাকায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। আজ আরও ৪ জনকে পাকড়াও করা হয়। গত সপ্তাহের হিংসা, হাঙ্গামায় অন্তত তিনটি দোকান, দুটি বাস, একটি গাড়ি পোড়ানো হয় প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষ্যে জাতীয় পতাকা নিয়ে বেরনো বাইক মিছিলে পাথর ছোঁড়ার জেরে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষে এক যুবকের মৃত্যুর পর। এদিন কাসগঞ্জের এরিয়া পুলিশ সুপার সুনীল কুমার সিংহকে মিরাটের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে বদলি করেছে আদিত্যনাথ সরকার। কাসগঞ্জের নয়া এসপি হয়েছেন পীযূষ শ্রীবাস্তব। উপরাষ্ট্রপতি বেঙ্কাইয়া নাইডু আগেই আদিত্যনাথ প্রশাসনকে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে বলেছেন। তিনি সরকারকে রাজ্যবাসীর কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র ফিরিয়ে নিতে পরামর্শ দেন। বলেন, যাদের আগ্নেয়াস্ত্র আছে, সেগুলি তাঁরা ফেরত দিন। মুখ্যমন্ত্রীকে বলছি, প্রচুর মানুষের কাছে আগ্নেয়াস্ত্র আছে, যা অশান্তির মূল কারণ। আইন শৃঙ্খলাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে বলেন তিনি। রাজ্যের প্রথম সারির মন্ত্রী সিদ্ধার্থনাথ সিংহ কাসগঞ্জের অশান্তির জন্য বিজেপিকে দায়ী করায় পাল্টা আক্রমণ করেন সমাজবাদী পার্টি, বহুজন সমাজ পার্টিকে। বলেন, ওদের মন্তব্যে একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তুষ্ট করার মনোভাব স্পষ্ট। ওদের জমানায় এফআইআরই নথিভুক্ত হত না, কিন্তু আমাদের সরকার এ ব্যাপারে পক্ষপাতহীন তদন্ত সুনিশ্চিত করবে। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ জানিয়েছে, আকাশপথে ড্রোন ক্যামেরা ছেড়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, পরিস্থিতি ভাল হচ্ছে। কাসগঞ্জের জেলাশাসক আরপি সিংহ বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। হিংসায় নিহত ছেলেটির পরিবারকে ২০ লক্ষ টাকার চেক দেওয়া হয়েছে। ওর পরিবার চায়, ওকে শহিদের মর্যাদা দেওয়া হোক। ওরা লিখিত ভাবে দাবি জানালে তা সরকারের বিবেচনার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে বাড়ি বাড়ি তল্লাসি চালিয়ে বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়ে পুলিশ প্রধান জানিয়ে দেয়, এ ব্যাপারে জাতীয় নিরাপত্তা আইনের কঠোর ধারা প্রয়োগ করা হবে।