মন্দিরে পুজোর অধিকার না পাওয়ায় ধর্মান্তরিত হতে চাইছেন দলিত গ্রামবাসীরা
ABP Ananda, web desk | 29 Jul 2016 02:28 AM (IST)
চেন্নাই: স্থানীয় মন্দিরে পুজোর অনুমতি না পাওয়ায় তামিলনাড়ুর পাঝাংকাল্লিমেডু ও নাগাপল্লি গ্রামের প্রায় আড়াইশ দলিত হিন্দু পরিবার ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা ভাবছেন। নাগাপত্তিনম জেলার পাঝাংকাল্লিমেডু গ্রামের ১৮০ টি দলিত পরিবার স্থানীয় মন্দিরে পাঁচদিনের বার্ষিক উত্সবে একদিন পুজোপাঠ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু উচ্চবর্ণের হিন্দুরা তাঁদের অনুমতি দেয়নি বলে অভিযোগ। এর প্রতিবাদে দলিতরা ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন। এই অবস্থায় হিন্দু মুন্নানি ও হিন্দু মাক্কাল কাচ্চি মতো সংগঠনের নেতারা ওই গ্রামবাসীদের এই পদক্ষেপ গ্রহণে বিরত থাকার আর্জি জানিয়েছেন। তাঁরা সমস্যা সমাধানে বর্ণ হিন্দু ও দলিতদের মধ্যে মধ্যস্থতা করছেন। পাঝাংকাল্লিমেডু গ্রামে ৪০০ পরিবার রয়েছে। এরমধ্যে ১৮০ পরিবার দলিত। বর্ণ হিন্দুরা পিল্লাই সম্প্রদায়ভুক্ত এবং তাঁদের বেশিরভাগই জমিজমার মালিক। দলিতদের ভদ্র কালিম্মান মন্দিরে পুজোর অধিকার না দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনে নেতৃত্ব দিচ্ছেন দলিত দল ভিএসকে-র নেতা সেন্থিল কুমার। তিনি বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে দলিতরা পুলিশ ও প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। কিন্তু সেখানেও সমস্যার কোনও সুরাহা না হওয়ায় দলিত তরুণরা ধর্মান্তরিত হওয়ার প্রস্তাব দেন। সেন্থিল কুমার বলেছেন, গ্রামের দলিতরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে নির্যাতনের শিকার। এখন তাঁরা চান না যে, তাঁদের প্রজন্মও এই অস্পৃশ্যতা ও অপমানের শিকার হোক। তাই ধর্মান্তরণই তাঁদের কাছে একমাত্র বিকল্প। এদিকে, কারুরের নাগাপল্লি গ্রামেও মন্দিরে ঢুকতে না দেওয়ার প্রতিবাদে ধর্মান্তরিত হওয়ার কথা বিবেচনা করছেন ৭০ টি দলিত পরিবার। বৈষম্যের অবসান ঘটাতে এটাই একমাত্র উপায় বলে তাঁরা মনে করছেন। গ্রামের মন্দির ট্রাস্টের সভাপতি পি ভেট্রিয়াল জানিয়েছেন, সাত বছর আগে তাঁর বাবা এই মন্দির তৈরি করেছিলেন। ভেট্রিয়াল বলেছেন, গ্রামে অনেক মন্দির রয়েছে। তবুও দলিতদের একটি পৃথক মন্দির তৈরি করতে হয়। কিন্তু শ্রীলঙ্কা থেকে ফিরে আসা বর্ণ হিন্দুরা ওই মন্দিরে দলিতদের ঢুকতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং মন্দিরটি দখল করার চেষ্টা করছে। এ ব্যাপারে পুলিশ বা সরকার তাঁদের পাশে দাঁড়াচ্ছেন না বলেও অভিযোগ ভেট্রিয়ালের। তামিলনাড়ু সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের তহবিলের সাহায্যে দলিতরা ২০০৯-এ এই মন্দির তৈরি করেছিলেন। মন্দিরটি পরিচালনার ভার রয়েছে একটি ট্রাস্টের হাতে। এই ট্রাস্টের বেশিরভাগ সদস্যই দলিত। এখন উচ্চবর্ণের লোকজন দলিতদের ছাড়াই মন্দিরের উত্সব পরিচালনা করতে চাইছেন বলে অভিযোগ।