বেঙ্গালুরু: কর্ণাটকে কংগ্রেস-জেডিএস সরকারে নতুন সঙ্কট। মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ নিয়ে অসন্তুষ্ট হয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছেন ১৫ থেকে ২০ জন কংগ্রেস বিধায়ক। রাজ্যের প্রভাবশালী কংগ্রেস নেতা এম বি পাতিলের নেতৃত্বে ঘনঘন বৈঠক হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার বাঁচাতে আসরে নেমেছেন মুখ্যমন্ত্রী এইচ ডি কুমারস্বামী। তিনি পাতিলের সঙ্গে দেখা করেছেন। বৈঠকের পর কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘এই বিষয়টির সঙ্গে আমি সরাসরি যুক্ত না। কারণ, এই ধরনের সিদ্ধান্ত কংগ্রেস দলের। আমি পাতিলের যন্ত্রণা বুঝতে পারছি। তিনি প্রয়োজনের সময় দলের হয়ে কাজ করছেন। এখন তাঁর নিজেকে বঞ্চিত মনে হচ্ছে। তিনি আমাকে বলেছেন, একা কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। সম-মনোভাবাপন্ন বিধায়কদের সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবেন। কংগ্রেসের দিল্লির নেতাদের কাছে এই সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানাচ্ছি।’ পাতিল বলেছেন, ‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আমার বৈঠক নেহাতই সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ ছিল। যা হয়েছে সেটা কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিষয়। এ বিষয়ে কুমারস্বামী কিছু করতে পারবেন না। আমি একা নই। আমার সঙ্গে ১৫-১০ জন বিধায়ক আছেন। আমরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত নেব। কোনও ভুল বার্তা যাওয়া উচিত নয়। আমরা কংগ্রেস দলকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই যা করার করছি। কোনও বিধায়কেরই দল ছাড়ার ইচ্ছা নেই। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতেই পারি আমরা। এতে কোনও অন্যায় নেই।’ বুধবার কর্ণাটক সরকারের মন্ত্রিসভার সম্প্রসারণ হয়েছে। ২৫ জন নতুন মন্ত্রী শপথগ্রহণ করেছেন। গতবার যে কংগ্রেস নেতারা মন্ত্রী ছিলেন তাঁদের মধ্যে অনেকেই এবার বাদ পড়েছেন। এই তালিকায় আছেন পাতিল, দীনেশ গুন্ডু রাও, রামলিঙ্গ রেড্ডি, আর রোশন বেগ, এইচ কে পাতিল, তনবীর সেট, শামানুর শিবশঙ্করাপ্পান্ড, সতীশ জারকিহোলি। কংগ্রেস সূত্রে খবর, এই নেতারা প্রত্যেকেই ক্ষুব্ধ। গতকাল পাতিলের বাসভবনে বৈঠক করেন এম টি বি নাগরাজ, জারকিহোলি, সুধাকর, রোশন সহ বেশ কয়েকজন কংগ্রেস নেতা। এর আগে আরও কয়েকটি বৈঠক হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে কুমারস্বামীর পাশাপাশি উপমুখ্যমন্ত্রী জি পরমেশ্বর, মন্ত্রী ডি কে শিবকুমার, কে জে জর্জ ও আর ভি দেশপান্ডে পাতিলের বাসভবনে গিয়ে তাঁকে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।