সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন, নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া চলবে না, পাকিস্তানকে বার্তা মোদী, গনির
Web Desk, ABP Ananda | 14 Sep 2016 06:58 PM (IST)
নয়াদিল্লি: পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিলেন নরেন্দ্র মোদী ও আশরফ গনি। সন্ত্রাসবাদীদের সমর্থন, নিরাপদ আশ্রয় দেওয়া চলবে না, তাদের কোনওরকম পৃষ্ঠপোষকতা নয়, পারস্পরিক বৈঠকে এ কথা বললেন দুজনে। পাশাপাশি দুদেশের মধ্যে নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার করার সিদ্ধান্তও নিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও আফগানিস্তানের প্রেসিডেন্ট। দুজনের মধ্যে বুধবার এখানে আঞ্চলিক, দ্বিপাক্ষিক নানা ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত কথা হয়। উপমহাদেশে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনে সন্ত্রাসবাদের লাগাতার ব্যবহার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা। মোদী বৈঠকে ফের জানিয়ে দেন, ভারত সমৃদ্ধ, ঐক্যবদ্ধ, সার্বভৌম, শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল আফগানিস্তান গড়ে তোলায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে। সে দেশে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, কর্মদক্ষতার বিকাশ, মহিলা ক্ষমতায়ন, শক্তি, পরিকাঠামো, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে মজবুত করার ব্যাপারে আরও সহায়তা দিতেও ভারত আগ্রহী বলে গনিকে জানান তিনি। বৈঠক শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী প্রস্তাব দিয়েছেন, আফগানিস্তানের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও প্রতিবেশী হিসাবে ভারত তাদের ১০০ কোটি মার্কিন ডলার বরাদ্দ করবে। এদিন তিনটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় দু পক্ষের মধ্যে। প্রত্যর্পণ চুক্তি, অসামরিক ও বাণিজ্যিক বিষয়ে সহযোগিতা চুক্তি ও মহাকাশের শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সহযোগিতার জন্য বোঝাপড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সাংবাদিক বৈঠকে বিদেশ সচিব এস জয়শঙ্কর বলেন, আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করে দুই নেতাই রাজনৈতিক স্বার্থপূরণে লাগাতার সন্ত্রাসবাদ ও হিংসার ব্যবহারে উদ্বেগ জানিয়ে সহমত হন যে, এটাই উপমহাদেশ ও তার বাইরে শান্তি, সুস্থিতি ও সমৃদ্ধির সামনে সবচেয়ে বড় বিপদ। তাঁরা জোর দিয়ে বলেন, কোনও বাছবিচার চলবে না, সব ধরনের সন্ত্রাসবাদ খতম করতে হবে। ‘সংশ্লিষ্ট পক্ষ’কে সন্ত্রাসবাদীদের যাবতীয় মদত, সমর্থন, নিরাপদ ঘাঁটির সুযোগ করে দেওয়া বন্ধ করার ডাক দিয়েছেন তাঁরা। ভারত ও আফগানিস্তান, উভয় দেশকেই নিশানা করে, এমন জঙ্গিদের বিরুদ্ধেও কঠোর হতে বলেছেন। যদিও কেউই একবারও নাম করেননি পাকিস্তানের। প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে সরবরাহ জোরদার করার জন্য আফগানিস্তানের দীর্ঘদিনের দাবি কি ভারত মেনে নিয়েছে, প্রশ্ন করা হলে জয়শঙ্কর বলেন, দুই নেতাই ভারত-আফগানিস্তান কৌশলগত শরিকি চুক্তিতে যেভাবে আলোচনা করা হয়েছে, সেইমতো সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও নিরাপত্তা, প্রতিরক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে দায়বদ্ধতার কথা ফের বলেছেন।