মুম্বই: বান্ধবীর আত্মহত্যায় বিষন্ন হয়ে আত্মহত্যা করতে মনস্থির করেছিলেন। সেইমতো, বহুতলের ছাদ থেকে মরণঝাঁপও দিয়েছিলেন। কিন্তু, ঠিক পরের মুহূর্তেই ভয় পেয়ে নিচের তলার জানলা ধরে ঝুলে জীবন পেলেন এক ব্যক্তি! ঘটনাস্থল মুম্বই।

খবরে প্রকাশ, দাদর পুলিশ জানিয়েছে, গত শুক্রবার সকালে খবর আসে যে, প্রভাদেবী এলাকায় এক ১৭ বছরের কিশোরী ১৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। জানা যায় সোনালী পেন্দারে নামে ওই কিশোরী একটি বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করত।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। এমন সময় পুলিশের কাছে আরেকটি খবর পৌঁছয়। তারা জানতে পারে, পাশেই একটি বহুতলের জানলা থেকে ঝুলে রয়েছেন এক ব্যক্তি। পুলিশ জানতে পারে, ওই ব্যক্তির নাম গণেশ খীর। পেশায় চালক।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা ওই বহুতল থেকে তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা করলে, তিনি ঝাঁপ দেওয়ার হুমকি দিতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে দমকলে খবর পৌঁছয়। তারা এসে মই লাগিয়ে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করার চেষ্টা করে।

কিন্তু, ওই ব্যক্তিও নাছোড়বান্দা! তিনিও জানিয়ে দেন, তাঁকে উদ্ধার করার চেষ্টা হলে তিনি হাত ছেড়ে দেবেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ওই ব্যক্তির স্ত্রী, ৯ বছরের মেয়ে ও শিশুপুত্রকেও নিয়ে আসা হয়।

পুলিশ গণেশকে বোঝাতে থাকেন কোনও প্রকার হঠকারি সিদ্ধান্ত না নিতে। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, কেন তিনি আত্মহত্যা করতে চাইছেন? উত্তরে, গণেশ জানান, সোনালীর সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক তৈরি হয়। কিন্তু, এদিন সে আত্মহত্যা করেছে জানতে পেরে তিনিও একই পথ বেছে নিতে চান।

পুলিশ তাঁকে এই বলে আশ্বস্ত করে যে, সোনালী বেঁচে আছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। পাশাপাশি, তাঁকে তাঁর স্ত্রী-সন্তানদের দোহাইও দেওয়া হয়। এমনকী, তাঁর স্ত্রীকে দিয়েও তাঁকে মানানোর চেষ্টা করা হয়।

অবশেষে তিনঘণ্টার নাটকে যবনিকাপাত পড়ে। রণে ভঙ্গ দেন গণেশ। তিনি জানলার গ্রিল ছেড়ে ঝাঁপ দেন। তবে, নীচে পাতা ছিল জাল। তাতেই ধরা পড়েন তিনি। গণেশকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানতে পারে, সোনালীর মৃত্যুশোকে গণেশ ফিনাইল খেয়ে ১২ তলার ছাদ থেকে ঝাঁপ দেয়। কিন্তু, পরের মুহূর্তেই ভয় পেয়ে কোনওমতে ১১ তলার জানলার গ্রিল জাপটে প্রাণে বেঁচে যান। পুলিশ আরও জানতে পেরেছে, তার আগের দিন দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। তারপরই আত্মহত্যা করে সোনালী।