নয়াদিল্লি: ওলা সেন্সর করল এক বিশ্ব হিন্দু পরিষদ (ভিএইচপি) নেতাকে, যিনি দিনকয়েক আগে অ্যাপ নির্ভর গাড়ি পরিষেবা দেওয়া ওই সংস্থার এক চালক মুসলিম বলে তাঁর গাড়িতে ওঠেননি। ট্যুইটারে ফলাও করে চালকের ধর্মীয় পরিচয় জেনে বুকিং বাতিলের কথাও জানিয়েছেন অভিষেক মিশ্র নামে ওই হিন্দুত্ববাদী নেতা। ওলা আজ জানিয়ে দিল, এই সংস্থা তার চালক বা খদ্দেরদের ধর্ম, জাত বা লিঙ্গের মাপকাঠিতে কোনও ভেদাভেদ করে না। ধর্মনিরপেক্ষতা মানে। আমরা সব খদ্দের, ড্রাইভার পার্টনারকে সব সময় পরস্পরকে সম্মান করে চলার আবেদন করছি।
নিজেকে 'হিন্দুত্ববাদী চিন্তক' বলা অভিষেক ভিএইচপি-র মিডিয়া উপদেষ্টা। তাঁর ২০ এপ্রিলের ট্যুইট ঘিরে শোরগোল ছড়ায় যাতে তিনি চালক মুসলিম বলে ওলার বুকিং বাতিল করেছেন বলে জানান, এও লেখেন, তিনি জেহাদিদের পয়সা দেবেন না! ট্যুইটারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া হয়। অনেকেই ট্যুইটার ও ওলায় অভিষেকের অ্যাকাউন্ট বাতিলের দাবি করেন। যদিও প্রচুর লাইকও পড়ে।
অভিষেকের মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করে কংগ্রেস সাংসদ শশী তারুর ট্যুইট করেন, আমার সেই ভারতকে মনে পড়ছে যেখানে এ ধরনের চিন্তাভাবনা পোষণ করা লোকজনকেই বাহবা দেওয়া, ফলো করার পরিবর্তে একঘরে করা হত। আমাদের সেই ভারতীয়ত্ব ফিরিয়ে আনতে হবে।
ট্যুইটার কর্তৃপক্ষ অবশ্য অভিষেককে তাদের প্ল্যাটফর্ম থেকে নিষিদ্ধ করার দাবি মানেনি। বলেছে, তারা ট্যুইটের বিষয়বস্তু তদন্ত করে দেখে নিয়মরীতি ভাঙার কোনও প্রমাণ পায়নি। অভিষেকের এও দাবি, তিনি ট্যুইটার থেকে নোটিফিকেশন পাচ্ছেন যে, কেউ কেউ তাঁর অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলের চেষ্টা করছে।
বিতর্ক, সমালোচনাও গায়ে মাখছেন না অভিষেক। আরেক ট্যুইটে লিখেছেন, শুধু হিন্দু ড্রাইভারদের হয়ে কথা বলছি। ওদের সঙ্গেও খদ্দেররা ধর্মীয় কারণে বৈষম্যমূলক আচরণ করেন। শুধু আমার ধরণটা ভিন্ন। তাতেও প্রচুর লাইক পড়ে। এও লেখেন তিনি, লোকে আমায় আক্রমণ করছে। আমার কি পছন্দ- অপছন্দ বলে কিছু থাকতে পারে না। ওরা যদি গাড়িতে হনুমানজির ছবি লাগানোর বিরুদ্ধে প্রচার করতে পারে, কাঠুয়ার ঘটনার পর হিন্দুদের, হিন্দু দেবদেবীদের অপমান করতে পারে, তবে পাল্টা আঘাত তো হবেই। একটি সংবাদপত্রের রিপোর্ট, অভিষেকের ট্যুইটারে ১৪ হাজারের ওপর ফলোয়ার, যাঁদের মধ্যে আছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্যবর্ধন রাঠোর, আর কে সিংহ, রামকৃপাল যাদব, নরেন্দ্র সিংহ টোমার, বিজেপি এমপি মনোজ তিওয়ারি।