শ্রীনগর: হিজবূল মুজাহিদিন জঙ্গি বুরহান ওয়ানির মৃত্যুর পর এদিনও অশান্তি অব্যাহত রয়েছে কাশ্মীরে। এদিনও বেশ কয়েকটি জায়গায় নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে ইঁট-পাটকেল ছুঁড়ে বিক্ষোভ দেখায় জনতা। একটি জায়গায় বিক্ষোভকারী ও নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এই নিয়ে গত কয়েকদিনের অশান্তির ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ৩৫। মানুষের এই প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি। তিনি রাজ্যের মানুষের ক্ষতে প্রলেপ দিতে মানবিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন। যদিও গত কয়েকদিনের তুলনায় এদিনের পরিস্থিতি ছিল অনেকটাই শান্তিপূর্ণ।কাশ্মীরের বেশ কিছু অংশে এখনও বহাল রয়েছে কার্ফু। এরইমধ্যে কোইমোর হারনাগে আজ সন্ধ্যায় রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়া হয়। বিক্ষোভকারীরা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এরফলে একজন জখম হয়। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অশান্ত হয়ে ওঠে অনন্তনাগ জেলা সদরের পরিস্থিতি। উত্তেজিত জনতা খান্নাবালে একটি ফরেস্ট বাংলোয় আগুন ধরিয়ে দেয়। এদিকে পুলওয়ামায় বায়ুসেনার ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। বিক্ষোভকারীদের হঠাতে গেলে এক যুবক জখম হয়। হাসপাতালে তার চিকিত্সা চলছে এবং শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে সরকারি সূত্রে জানা গেছে। রাজ্য পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, এদিন খুদওয়ানি, কুলগাম, ইমান সাহিব, সোফিয়ান, কাকপোরা, ক্রালাপোরা, কুপওয়ারা, ত্রেঘাম, লানগেট, লালপোরা, পুটখা সোপোর এবং মেন চখ সোপেরে বিক্ষিপ্ত পাথর ছোঁড়ার ঘটনা ঘটে। এদিকে, হিংসা ও রক্তপাত থেকে রাজ্যকে বের করে আনার জন্য জনগনের কাছে আর্জি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৯৩১-র শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা অর্পন করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ২৭ বছরের হিংসা রাজ্যের প্রায় প্রতিটি পরিবারেরই ক্ষতের সৃষ্টি করেছে। অবিরাম রক্তপাত ও ধ্বংস থেকে রাজ্যকে রক্ষা করতে সবাইকে যৌথভাবে উদ্যোগ নিতে হবে। সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে মেহবুবা বলেছেন, মানবিক স্পর্শ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির কাছে পৌঁছনোকেই এখন রাজ্য সরকারের অগ্রাধিকার দিয়েছে। রাজ্যে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে একটি দীর্ঘমেয়াদি যৌথ প্রয়াস গ্রহণ করার কথাও বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।