কলকাতা: নীরব মোদী, মেহুল চোকসি, বিক্রম কোঠারির হাজার হাজার কোটি কোটি টাকার একের পর এক ব্যাঙ্ক প্রতারণার ফলে আমানতের ভবিষ্যত নিয়েই সাধারণ মানুষ যখন আতঙ্কে, তখন ফের তাদের ঘাড়ে বোঝা চাপল। দশমিক দু’শতাংশ সুদ কমল পাবলিক প্রভিডেন্ড ফান্ড বা পিপিএফে। আগে মিলত ৭.৮ শতাংশ। সুদ কমার পরে সেটাই নেমে আসবে ৭.৬ শতাংশে। আর এতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন অসংখ্য সাধারণ মানুষ!! হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপিতে অভিযুক্ত নীরব মোদী, মেহুল চোকসিরা এখনও বেপাত্তা। ঠিক সেই সময়ই সাধারণ মানুষের উপর কোপ দিয়ে, পিপিএফে সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত যেন আগুনে ঘি ঢেলেছে! এক আমানতকারীর অভিযোগ, এত টাকা মেরে দিয়ে তো ওরা চলে গেল। পিপিএফ থেকে .২ শতাংশ সুদ কমাল। তাতে তো কিছু টাকা উঠে এল সরকারের! পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সুদ কমছে পিপিএফে। ২০১২-১৩ অর্থবর্ষে পিপিএফে সুদ মিলত ৮.৮ শতাংশ। ২০১৩-১৪, ১৪-১৫ এবং ১৫-১৬ অর্থবর্ষে সুদ দেওয়া হয় ৮.৭ শতাংশ হারে। এরপর আরও কমে ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে তিরিশে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত পিপিএফে সুদ ছিল ৮.১ শতাংশ। ২০১৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত সুদ হয় আট শতাংশ। গত এপ্রিলে ফের কমে পিপিএফের সুদ। ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পিপিএফের সুদ কমে হয়েছিল ৭.৯ শতাংশ। জুলাই থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে সুদ কমে হয় ৭.৮ শতাংশ। নয়া সিদ্ধান্তে এবারের জানুয়ারি থেকে সেই সুদই আরও কমে মিলবে ৭.৬ শতাংশ হারে!! অর্থাৎ গত কয়েক বছরে পিপিএফে সুর লাগাতার কমেই চলেছে। বিজেপি অবশ্য মনে করছে, পিপিএফে সুদ কমলেও তাতে সাধারণ মানুষের না কি কোনও অসুবিধা হয় না। রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেন, ক্রয় ক্ষমতা বেড়েছে, মুদ্রাস্ফিতি কমেছে। মানুষের অসুবিধা কোথায় সুদ কমলে? তৃণমূল আবার এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। দলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেন, মধবিত্ত, গরিবকে পথে বসিয়ে ছাড়বে। অবসরপ্রাপ্তদের সমস্যা। হাজার হাজার কোটি টাকা মেরে বিদেশে। আমরা প্রতিবাদ করব। একের পর এক ব্যাঙ্ক প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় অনেকেই বলছেন, রাঘব বোয়ালদের ধরতে না পেরেই কি বারবার নিরীহ সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে সরকার! সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভের পারদ ক্রমেই চড়ছে!!!
পিপিএফেও কমল সুদের হার, ৭.৮ থেকে হল ৭.৬ শতাংশ
Web Desk, ABP Ananda | 19 Feb 2018 08:18 PM (IST)
