'মহাত্মাকে মেরেছে আরএসএস' মন্তব্যের জন্য মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে ২ বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে রাহুলের
Web Desk, ABP Ananda | 12 Jun 2018 04:33 PM (IST)
নয়াদিল্লি: মহাত্মা গাঁধী হত্যাকাণ্ড নিয়ে আরএসএস অবমাননার মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে দু বছর পর্যন্ত কারাবাস হতে পারে রাহুল গাঁধীর। ঠানের ভিওয়ান্ডির আদালতে আজ কংগ্রেস সভাপতি অবশ্য দাবি করেন, তিনি নির্দোষ। রাহুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৪-র ৬ মার্চ এক নির্বাচনী সভায় তিনি বলেন, আরএসএসের লোকজনই মহাত্মা গাঁধীকে হত্যা করেছে। এজন্য রাজেশ কুন্তে নামে জনৈক আরএসএস ক্যাডার রাহুলের বিরুদ্ধে তাঁর সংগঠনের মানহানির অভিযোগে মামলা করেন ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ (কুত্সার মাধ্যমে সম্মানহানি) ও ৫০০ (মানহানির শাস্তি) ধারায়। ৫০০ ধারায় বলা হয়েছে, যিনিই আরেকজনের মর্যাদাহানি করবেন, তাঁর শাস্তি হবে কারাবাস, যার মেয়াদ হতে পারে দু বছর পর্যন্ত বা জরিমানা, এমনকী জেল ও জরিমানা, দুটোই। এদিন দায়রা ম্যাজিস্ট্রেট এ আই শেখ রাহুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি ও মামলাকারী রাজেশ কুন্তের বিবৃতি পড়ে বলেন, অভিযাগ অনুসারে, ভিওয়ান্ডিতে নির্বাচন উপলক্ষ্যে আপনি (রাহুল) ২০১৪-র ৬ মার্চ অভিযোগকারীর সংগঠনের অবমাননা করেছেন। আপনার ভাষণ চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছিল, সংবাদপত্রেও ছাপা হয়েছিল। তাতে অভিযোগকারী ও তাঁর সংগঠনের সম্মানহানি হয়েছে। ফলে আপনি ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৯ ও ৫০০ ধারায় অপরাধ করেছেন। আপনি কি অভিযোগ স্বীকার করছেন? রাহুল বলেন, আমি অপরাধী নই। তারপরই আদালত চার্জ গঠন করে কংগ্রেস সভাপতির বিরুদ্ধে। রাহুলের কৌঁসুলিরা বলেন, অভিযোগকারীর জমা দেওয়া গাঁধীর সেই ভাষণের ভিডিওর ট্রান্সস্ক্রিপ্ট সমেত কিছু নথি তথ্যপ্রমাণ হিসাবে মানা হবে কিনা, পরবর্তী শুনানির দিন সম্ভবত আদালত রায় দেবে সে ব্যাপারে। রাহুল গত মাসে আবেদন করেছিলেন, এই মামলায় সামারি ট্রায়ালের পরিবর্তে সামনস ট্রায়াল হোক যাতে সব নথি বিস্তারিত রেকর্ড করা হয়। আদালত তাতে সায় দিয়েছে আজ। রাহুল আগে মামলা খারিজের আর্জি জানিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টে। ২০১৬-র জুলাইয়ে শীর্ষ আদালত বলেছিল, একটি সংগঠনের ঘাড়ে পুরো দায় চাপানো উচিত হয়নি রাহুলের, তিনি তাঁর মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ না করলে বিচারের মুখে দাঁড়াতে হবে। রাহুল যদিও দুঃখ প্রকাশের পরামর্শ প্রত্যাখ্যান করে বিচারের মুখোমুখি হতে তৈরি বলে জানিয়ে দেন।