নয়াদিল্লি: রাহুল গাঁধীর গাড়িতে হামলা। শুক্রবার গুজরাতের বন্যা-কবলিত ধানেরাতে গিয়েছিলেন কংগ্রেস সহ-সভাপতি। বন্যা পীড়িতদের সঙ্গে কথা বলেন কংগ্রেস সহ সভাপতি। তারপর বন্যা পীড়িতদের হাতে তুলে দেন ত্রাণ।
জানা গিয়েছে, বনসকান্ঠায় রাহুল গাঁধীর গাড়ির উপর হামলা চালানো হয়। একটি সভায় অংশগ্রহণ করতে গিয়েছিলেন তিনি। অভিযোগ, রাহুল যখন মঞ্চে বক্তব্য পেশ করছিলেন, তখন তাঁকে কালো পতাকা দেখায় বিক্ষোভকারীরা। সেই সময় মঞ্চ থেকে নেমে যান কংগ্রেস সহ-সভাপতি। ফেরার পথে, ধানেরায় লালচকে রাহুল গাঁধীর গাড়ি আটকে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। এরপরই আচমকা গাড়ি লক্ষ্য করে উড়ে আসে সিমেন্টের চাঙর। ভেঙে চুরমার হয়ে যায় গাড়ির কাচ।
হেলিপ্যাডে যাওয়ার সময় ওই হামলা চালানো হয়। মূল হামলাকারীকে আটক করা হযেছে বলে জানা গিয়েছে। অল্পের জন্য রক্ষা পান রাহুল গাঁধী। আহত হন তাঁর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা স্পেশাল প্রোটেকশন গ্রুপের এক সদস্য! হামলার পর হাসিমুখে পাল্টা হামলাকারীদের উদ্দেশে বার্তা দেন রাহুল। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কংগ্রেস সহ সভাপতি বলেন, বলেন, জনা চারেক লোক এল কালো পতাকা দেখাল। পাথর ছুঁড়ল। ৮-১০ জন পাল্টা তাড়া করতেই পালিয়ে গেল। এই কালো পতাকায় ভয় পাই না। কালো পতাকা, নরেন্দ্র মোদীর নামে স্লোগান বা পাথরবাজিতে দমে পিছু হটার লোক তিনি নন।
দলের তরফেও তীব্র নিন্দা করা হয় এই ঘটনার। কংগ্রেস নেতা অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি বলেন, হামলা তীব্র নিন্দাজনক। তাঁর দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরা এই হামলা চালিয়েছে। তিনি যোগ করেন, হামলায় রাহুলের সঙ্গে থাকা এসপিজি-দের কয়েকজনও আহত হয়েছেন। সিঙ্ঘভির প্রশ্ন, আমরা কি এমন গণতন্ত্রে পৌঁছে গিয়েছি যে, বিরোধীরা গণতান্ত্রিক রাজনীতি প্রয়োগ করতে পারবেন না?
রাহুলের গাড়িতে হামলার ঘটনার নিন্দা করে মুখ খুলেছেন মনমোহন সিংহও। তিনি বলেছেন, এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছি। রাজনীতিতে হিংসার কোনও জায়গা নেই। যদিও, হামলার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। দলের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়, রাহুলের গাড়ি হামলার নেপথ্যে দলের কোনও ভূমিকা নেই। সবটাই মানুষের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।
সব মিলিয়ে ৮ তারিখ গুজরাতে রাজ্যসভা নির্বাচনের আগে রাহুল গাঁধীর গাড়িতে হামলার ঘটনায় তোলপাড় জাতীয় রাজনীতি।