নয়াদিল্লি: গণপিটুনিতে দোষী সাব্যস্তদের মালা পরিয়ে স্বাগত জানানোয় কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জয়ন্ত সিনহার হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনীর মর্যাদা প্রত্যাহারের দাবিতে যে পিটিশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তাতে সমর্থন জানালেন রাহুল গাঁধী। পিটিশনের হোতা হার্ভার্ডের মাস্টার অব পাবলিক পলিসির এক ছাত্র। হার্ভার্ডের প্রেসিডেন্টকে পাঠানো পিটিশনে 'অপরাধীদের সম্মানিত করায়' জয়ন্ত সিনহার প্রাক্তনীর মর্যাদা কেড়ে নেওয়ার দাবি করা হয়েছে। তাঁর আচরণের নিন্দা, সমালোচনা করে বলা হয়েছে, এটা গোটা দেশকে হতবাক করেছে, প্রতিষ্ঠানের মুখ পুড়িয়েছে। কংগ্রেস সভাপতিও সেই পিটিশন সমর্থনের আবেদন করে ট্যুইট করেছেন, জয়ন্ত সিনহার মতো একজন উচ্চশিক্ষিত এমপি ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে গণপিটুনিতে একজন নিরপরাধ মানুষকে মেরে ফেলায় দোষী অপরাধীদের মালা পরিয়ে সম্মানিত করার দৃশ্য আপনাকে ক্ষুব্ধ করে দেবে। এই লিঙ্কে ক্লিক করে পিটিশন সমর্থন করুন। গণপিটুনির ঘটনায় দোষীরা জামিনে জেলের বাইরে আসায় গত সপ্তাহে নিজের হাজারিবাগের বাড়িতে তাদের অভ্যর্থনা জানিয়ে বিতর্কে জড়িয়েছেন জয়ন্ত সিনহা। কংগ্রেসের নেতৃত্বে বিরোধীরা তাঁকে ও নরেন্দ্র মোদী সরকারকে আক্রমণ করে বলেছে, ওনার এই আচরণ গণপিটুনিতে জড়িত অপরাধীদের এই 'গ্যারান্টি' দিয়েছে যে, এই সরকারের সমর্থন, মদত তারা পাবে। সমালোচনার মুখে জয়ন্ত সিনহা সাফাই দিয়েছেন, তিনি যে কোনও ধরনের হিংসা, নজরদারির বিরোধী। বলেছেন, আমাদের সাংবিধানিক গণতন্ত্রে আইনের শাসন চূড়ান্ত। যে কোনও নাগরিকের অধিকার খর্ব করে, এমন যে কোনও বেআইনি কাজের সাজা হওয়া উচিত আইন প্রয়োগ করে। আমাদের বিচারবিভাগ, আইনের শাসনের ওপর আমার পূর্ণ আস্থা আছে। আমি আইনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকেই সম্মান করছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আমার কাজের ব্যাপারে দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য করা হচ্ছে। যারা নিরপরাধ, তারা রেহাই পাবে আর যারা দোষী, তাদের যথোপযুক্ত সাজা হবে। পাশাপাশি মুম্বই পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার জুলিও রেবেইরো, প্রাক্তন মুখ্য তথ্য কমিশনার ওয়াজাত হবিবুল্লাহ ও আরও ৪১ জন অবসরপ্রাপ্ত আমলা আট দোষীকে সংবর্ধনা দেওয়ায় জয়ন্ত সিনহাকে বরখাস্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের অভিমত, সিনহার কাজে এই বার্তাই যাচ্ছে যে, সংখ্যালঘুদের হত্যার ছাড়পত্র রয়েছে, এ ধরনের অপরাধে অভিযুক্তরা আর্থিক, আইনি ও রাজনৈতিক সমর্থন, মদত পাবে।