ভুল লোক ভেবে আফরাজুলকে খুন, পুলিশের কাছে সাফাই শম্ভুলালের
ওয়েব ডেস্ক, এবিপি আনন্দ | 19 Dec 2017 05:28 PM (IST)
জয়পুর: কাজের খোঁজে রাজস্থানে যাওয়া ৫০ বছরের এক বাঙালি মহম্মদ আফরাজুলকে কুপিয়ে, আগুনে পুড়িয়ে খুন করেছিল শম্ভুলাল রেগর। শুধু তাই নয়, ওই নারকীয় হত্যার ঘটনার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করে বীরত্ব জাহির করেছিল সে। কিন্তু কেন এভাবে আফরাজুলকে খুন হতে হল? এই প্রশ্নের উত্তর হাতড়াচ্ছেন মালদায় মৃতের শোকার্ত পরিবার। এখন পুলিশের দাবি, শম্ভুলাল কবুল করেছে যে, ভুল করে আফরাজুলকে খুন করে ফেলেছে সে। শম্ভুলাল তো প্রথমে লাভ জেহাদের জিগির তুলেছিল। সে দাবি করে, আফরাজুল লাভ জেহাদে জড়িত। এর প্রতিবাদ হিসেবেই সে আফরাজুলকে খুন করেছে। কিন্তু আফরাজুলের পরিবার ও তাঁর সঙ্গে যাঁরা রাজস্থানে কাজ করতেন, তাঁরা সরাসরি ওই অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, পেটের দায়ে ভিনরাজ্যে গিয়ে দিনমজুরির কাজ করতেন আফরাজুল। তিনি কখনওই কোনও সম্পর্ক বা ধর্মান্তরের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। নিজের মোবাইলে শম্ভুলালের বিদ্বেষমমূলক ভিডিও দেখার আসক্তি ছিল। সেই সুবাদেই এলাকার কোনও একজন মুসলিমকে খুন করে একটা নজির গড়ার তাগিদ থেকেই সে ওই কাজ করেছে কিনা, সেই সম্ভাবনা প্রথমে পুলিশ খতিয়ে দেখছিল। সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এখন শম্ভুলাল পুলিশের কাছে কবুল করেছে যে, সে আফরাজুলকে চিনতও না। তার লক্ষ্য ছিল অন্য একজন। তাঁর নাম আজ্জু শেখ। তিনিও পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা শ্রমিক। স্থানীয় এক হিন্দু মহিলার সঙ্গে আজ্জুর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল বলে সন্দেহ হয় শম্ভুলালের। শম্ভুলালের দাবি, ওই মেয়েটি তার বোনেরমতো। যদিও অন্যরা জানিয়েছেন, ওই মেয়েটির সঙ্গে শম্ভুলালেরই সম্পর্ক ছিল। আজ্জুর সঙ্গে সম্পর্কের কারণে ওই মেয়েটির সঙ্গে নিজের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার ভয় ঢুকে যায শম্ভুলালের। তাই আজ্জুর সন্ধানে সে স্থানীয় বাজারে যায়। কিন্তু সেখানে আজ্জুর দেখা পায়নি সে। তখন সে জানায় যে, তার কিছু কাজ করানোর প্রয়োজন রয়েছে। এজন্য অন্য এক শ্রমিকের কাছ থেকে আজ্জুর ফোন নম্বর চায় সে। পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, হয় ওই শ্রমিক শুনতে ভুল করেছিলেন। কিংবা ভেবেছিলেন যে, শম্ভুর যদি কাজ করানোর প্রয়োজন থাকে, তাহলে সেই কাজ আফরাজুল করেই তো কিছু টাকা পেতে পারেন। এরপর তিনি আফরাজুলের নম্বর শম্ভুলালকে দেন। শম্ভুলাল এরপর আফরাজুলকে ফোন করে বলে যে, একটা পাঁচিল তুলতে হবে। ঘটনার দিন নিজে গিয়ে আফরাজুলকে নিয়ে আসে শম্ভুলাল। এমনকি একটি চায়ের দোকানে একসঙ্গে চাও খায়।এরপর বাড়িতে গিয়ে একটা হাত কুড়ুল নিয়ে আসে। সঙ্গে আনে নিজের ছোট মেয়ে ও ১৪ বছরের ভাইপোকে। ওই কিশোরই শম্ভুলালের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ভিডিও তোলে।