বেঙ্গালুরু: কর্নাটকের শাসক কংগ্রেসের বিধায়ক এন এ হ্যারিসের ছেলে মহম্মদ নালাপাড় হ্যারিসকে বেঙ্গালুরুর পাব-কাম-রেস্তোরাঁয় এক ব্যক্তিকে নিগ্রহের অভিযোগে শনিবার রাত থেকে খুঁজছিল পুলিশ। নাটকীয় ভাবে আজ তিনি কুব্বন পার্ক থানায় আত্মসমর্পণ করেন। কর্নাটক বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছে বিধায়ক-পুত্রের বিরুদ্ধে ক্ষমতার দাপট দেখানোর অভিযোগ। নালাপাড় আবার বেঙ্গালুরু যুব কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক। বিরোধীরা অভিযোগ তোলে, তাঁকে বাঁচানোর চেষ্টা হচ্ছে। চাপে পড়ে তাঁকে ৬ বছরের জন্য বহিষ্কার করে কংগ্রেস। এবার ড্যামেজ কন্ট্রোলের চেষ্টায় নালাপাড়কে আত্মসমর্পণ করানো হল বলে মনে করা হচ্ছে। নালাপাড়ের বিধায়ক বাবাই সাংবাদিকদের জানান, ছেলেকে ধরা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। নালাপাড় ধরা দেওয়ার সময় থানার বাইরে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি-জনতা দল (এেস) কর্মীরা। সেখানে হাজির কংগ্রেস বিধায়কের অনুগামীদের সঙ্গে তাদের বাকবিতন্ডা হয়। ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১ (অন্যায় ভাবে বাধা দেওয়া), ৫০৬ (ফৌজদারি ভীতিপ্রদর্শন), ১৪৩ ও ১৪৪ (বেআইনি জমায়েত), ১৪৬ ও ১৪৭ (দাঙ্গা-হাঙ্গামা), ৩২৬ ( মারাত্মক অস্ত্রের ঘায়ে ইচ্ছা করে জখম করা), ৫০৪ (শান্তি নষ্ট করায় প্ররোচনা দিতে ইচ্ছা করে অপমান) ধারায় নালাপাতকে অভিযুক্ত করে পুলিশ। নালাপাড় ও তাঁর ১০ সঙ্গীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছিলেন এক ম্যানেজমেন্ট স্নাতকের বাবা-মা। তাঁদের দাবি, বিদ্যত নামে তাঁদের ২৪ বছরের ছেলেকে কথাকাটাকাটির মধ্যেই লাথি, ঘুঁষি মারা হয়স মাথায় আঘাত করা হয় মদের বোতল দিয়ে। এমনকী যে হাসপাতালে আহত বিদ্যতের চিকিত্সা চলছিল, সেখানে ঢুকেও তাঁকে হুমকি দেন নালাপাড়, তাঁর সঙ্গীরা। এমন মারাত্মক অভিযোগের পরও পুলিশ সক্রিয় নয়, অভিযোগ ওঠায় শীর্ষ পুলিশ কর্তারা নালাপাড়ের গ্রেফতারির নির্দেশ দেন। গতকাল সন্ধ্যায় তাঁকে গ্রেফতারির সময়সীমা পেরনোর পর এর পুলিশ ইনস্পেক্টরকে সাসপেন্ডও করা হয়।