তফসিলি জাতি, উপজাতি আইন নিয়ে রায় স্থগিতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট, কেন্দ্রের রিভিউ পিটিশনের বিস্তারিত শুনানিতে রাজি
Web Desk, ABP Ananda | 03 Apr 2018 04:50 PM (IST)
নয়াদিল্লি: তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন রোধ আইন নিয়ে গত ২০ মার্চের যে নির্দেশ ঘিরে অসন্তোষ, তা স্থগিত রাখতে রাজি হল না সুপ্রিম কোর্ট। ওই আইনে অভিযুক্তকে সঙ্গে সঙ্গে গ্রেফতারির বিধি আগের নির্দেশে শিথিল করা হয়েছে, ফলে তাদের বিরুদ্ধে হিংসা, অত্যাচার বেড়ে যাবে বলে দলিত সমাজের দাবির মধ্যেই গতকাল নানা মহলের চাপে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে রিভিউ পিটিশন পেশ করে, ২০ মার্চের নির্দেশ খতিয়ে দেখার আবেদন জানায়। গতকাল সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের বিরুদ্ধে দেশের নানা রাজ্যে দলিত বিক্ষোভ সহিংস হয়ে ওঠে। আজ বিচারপতি এ কে গোয়েল ও বিচারপতি ইউ ইউ ললিতকে নিয়ে গঠিত সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ সে প্রসঙ্গে ইঙ্গিত করে বলেছে, যারা রাস্তায় নেমে গণ্ডগোল করছে, ভাঙচুর করছে, আগুন ধরাচ্ছে, তারা রায়টি সঠিক ভাবে পড়েনি, বোঝেনি, তাছাড়া কিছু কায়েমী, স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীও তাদের ভুল বুঝিয়ে বিপথে চালাচ্ছে। তফসিলি জাতি ও উপজাতি নির্যাতন রোধ আইনের কোনও বিধি, ধারা লঘু করা হয়নি, শুধু নিরীহ, নিরপরাধ লোকজনের অহেতুক হেনস্থা ঠেকানো, তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করা হয়েছে বলে আজ জানিয়েছে বেঞ্চ।বলেছে, এই আইনের কোনও ধারা নির্দোষ ব্যক্তিকে ভয় দেখাতে প্রয়োগ করা যাবে না। বেঞ্চ কেন্দ্রের গতকালের রিভিউ পিটিশনটি বিস্তারিত শুনতে রাজি হয়েছে, ১০দিন বাদে শুনানির জন্য সেটি তালিকাভুক্তও করেছে। সে সময় লিখিত বক্তব্য পেশ করতে বলেছে মহারাষ্ট্র সরকার ও অন্যদের। কেন্দ্রের রিভিউ পিটিশনে বলা হয়েছে, শীর্ষ আদালতের ২০ মার্চের রায়ের প্রভাব প্রতিক্রিয়া হবে ব্যাপক এবং তা প্রয়োগ করা হলে ১৯৮৯ সালের আইনটির কঠোর বিধি, ধারাগুলি শিথিল ও দুর্বল হয়ে যাবে। এতে ভারতের জনসংখ্যার এক বড় অংশের মানুষ, যাঁরা তফসিলি জাতি, উপজাতি, দলিত সম্প্রদায়ভুক্ত, ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। ২০ মার্চের রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, তফসিলি জাতি, উপজাতি দমনপীড়ন বিরোধী আইনে মামলায় গ্রেফতারির ক্ষেত্রে বিধির অপব্যবহারের কথা মাথায় রেখে এখন থেকে সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করা যাবে তাঁর নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সম্মতি পেলেই। আর অ-সরকারি কর্মীকে গ্রেফতার করতে গেলে অনুমোদন নিতে হবে এসএসপি-র।