পুলওয়ামা নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য, পঞ্জাব বিধানসভার বাইরে সিধুর পাকিস্তান সফরের ছবি পুড়ল, মন্ত্রিসভা থেকে বহিষ্কারের দাবি বিরোধী অকালিদের
Web Desk, ABP Ananda | 18 Feb 2019 07:53 PM (IST)
চন্ডীগড়: পুলওয়ামার সন্ত্রাসবাদী হামলার পর ‘বিতর্কিত মন্তব্যের’ জন্য পঞ্জাবের মন্ত্রী নভজ্যোত সিংহ সিধুকে বরখাস্তের দাবি বিরোধী শিরোমনি অকালি দলের (স্যাড)। এ নিয়ে অকালি নেতা বিক্রম সিংহ মাজিথিয়ার সঙ্গে রাজ্য বিধানসভায় বাকবিতন্ডায় জড়ান প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার-রাজনীতিক সিধু। সোমবার পঞ্জাব বিধানসভার বাজেট অধিবেশনের প্রারম্ভে মাজিথিয়ার নেতৃত্বে অকালি নেতারা ভবনের বাইরে সিধুর পাকিস্তানের সেনাপ্রধানকে আলিঙ্গনের ছবিতে আগুন লাগান। গত বছরের ১৮ আগস্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসাবে ইমরান খানের শপথ গ্রহণ অনু্ষ্ঠানে তাঁর আমন্ত্রণে উপস্থিত ছিলেন সিধু। সেখানেই আরও অনেকের মধ্যে পাক সেনাপ্রধানকে জড়িয়ে ধরেন তিনি। সেই ছবি পুড়িয়ে মাজিথিয়া সাংবাদিকদের সামনে বলেন, আর সব কিছুর আগে আমরা কংগ্রেস, পঞ্জাব সরকারের স্পষ্ট অবস্থান জানতে চাই, তারা কি পাক সেনাপ্রধান, পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের নিন্দা করছে? মাজিথিয়া বলেন, পুলওয়ামা সন্ত্রাসবাদী হামলার নিন্দায় বিধানসভায় সর্বসম্মত প্রস্তাব পাশ হওয়ার পরও সিধু বলেছেন, পাকিস্তানকে দোষ দেওয়া চলে না, কোনও ব্যক্তিবিশেষ দায়ী নন। আমরা চাই, এসব মন্তব্যের জন্য তাঁকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করে দেওয়া হোক। এদিন সভায় প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হওয়ার পর কালো ব্যাজ পরে থাকা স্যাড-বিজেপি বিধায়করা উঠে দাঁড়িয়ে সিধুর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন। সিধুর জবাবি বক্তব্যের সময়ও তাঁরা শোরগোল করেন। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী গিরিরাজ সিংহ সিধুকে পুলওয়ামা নিয়ে তাঁর মন্তব্যের জন্য কংগ্রেস থেকে বহিষ্কারের দাবি তুলেছেন। পুলওয়ামার হামলা, পাক ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদের রমরমার জন্য গোটা পাকিস্তানকে দায়ী করা যায় করা যায় কিনা, এই প্রশ্ন তুলে সমালোচিত সিধু প্রসঙ্গে গিরিরাজ বলেন, কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গাঁধীর এজন্য সারা দেশের সামনে ব্যাখ্যা দিয়ে ক্ষমা চেয়ে নিয়ে সিধুকে দল থেকে বের করে দেওয়া উচিত। ২০০৪ এ বিজেপিতে নাম লিখিয়ে রাজনীতিতে প্রবেশ সিধুর। ২০১৭-র পঞ্জাব বিধানসভা ভোটের আগে বিজেপি ছেড়ে কংগ্রেসে যোগ দেন তিনি। পুলওয়ামা নিয়ে মন্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার জেরে সিধুকে কপিল শর্মার কমেডি শো ছাড়তে হয়েছে। পুলওয়ামাকাণ্ডের জেরে ৬ জন কাশ্মীরী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতার সরকারি নিরাপত্তা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তকেও সমর্থন করে গিরিরাজ বলেন, দীর্ঘদিন ওদের জামাই আদর করা হয়েছে। বিশ্বাসঘাতকদের সঙ্গে যেমনটা করা উচিত, ওদের সঙ্গেও তা করার সময় হয়েছে এবার।