নয়াদিল্লি: কর্নাটকে একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল বিজেপিকে সরকার গঠনের জন্য ডেকেছেন রাজ্যপাল বাজুভাই ভালা। বিধানসভা ভোটের পর কংগ্রেস-জেডিএস জোট গড়ে সরকার গঠনের দাবি জানালেও তাতে সায় দেননি রাজ্যপাল। এই অবস্থায় কর্নাটকের দৃষ্টান্ত অনুসরণ করে মণিপুর, গোয়ায় কংগ্রেস ও বিহারে আরজেডি একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তাদের সরকার গঠনের জন্য ডাকার দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট রাজ্যগুলির রাজ্যপালদের সঙ্গে দেখা করল। মণিপুরে রাজ্যপালের কাছে গিয়ে কংগ্রেসের প্রতিনিধিদল রাজ্যে সরকার গঠনের দাবি পেশ করেছে বলে জানিয়েছেন দলের মুখপাত্র খে জয়কিষাণ সিংহ। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওকরাম ইবোবি সিংহের নেতৃত্বে কংগ্রেসের পরিষদীয় দলের নয় সদস্য রাজভবনে মণিপুরের কার্যনির্বাহী রাজ্যপাল জগদীশ মুখির সঙ্গে দেখা করে সরকার গঠনের দাবি জানান। ২০১৭-র বিধানসভা নির্বাচনে মণিপুরের ৬০ সদস্যের বিধানসভায় ২৮ আসন পেয়েছিল কংগ্রেস। বিজেপি ২১ আসন পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিল। ভোটের পর আঞ্চলিক দলগুলির সঙ্গে হাত মেলায় বিজেপি এবং তত্কালীন রাজ্যপাল নাজমা হেপতুল্লা ওই জোটকে সরকার গড়তে ডেকেছিলেন। গত বছর গোয়া বিধানসভার ৪০ আসনের মধ্যে ১৭ আসন পেয়ে একক বৃহত্তম দল হিসেবে উঠে আসে কংগ্রেস। সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ম্যাজিক সংখ্যার থেকে চারটি আসন কম পেয়েছিল কংগ্রেস। বিজেপি ১৩ আসন পেয়েছিল। ভোটের ফল ঘোষণার পর তারা গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি ও মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টির সঙ্গে হাত মেলায়। এই জোটকে সরকার গঠনের জন্য ডাকেন গোয়ার রাজ্যপাল। সেই সিদ্ধান্ত বদলের দাবি জানিয়ে এদিন চন্দ্রকান্ত কাভলেকরের নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস পরিষদীয় দলের সদস্যরা রাজ্যপাল মৃদুলা সিনহার সঙ্গে দেখা করেন। এই দাবি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য সাতদিনের সময় দিয়েছে কংগ্রেস। রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করতে যান গোয়ায় কংগ্রেসের ১৬ বিধায়কের মধ্যে ১৪ জন। কারণ, একজন বিদেশ রয়েছেন, অন্যজন হাসপাতালে চিকিত্সাধীন। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে তাঁরা রাজ্যপালের সঙ্গে কথা বলেন। কাভলেকর বলেছেন, কর্নাটকের দৃষ্টান্ত মেনে ২০১৭-র ১২ মার্চের ভুল সংশোধনের অনুরোধ রাজ্যপালকে করেছি। আমাদের অনুরোধ সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য রাজ্যপালকে সাতদিনের সময় দিয়েছি। কংগ্রেসের বিধায়ক সংখ্যা এখন ১৬। কারণ, তাদের এক বিধায়ক বিশ্বজিত রানে গত বছরই বিজেপিতে যোগ দেন এবং এরপর বিজেপি টিকিটে বিজেপি বিধায়ক হিসেবে জেতেন। গোয়া প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গীরিশ চোড়নকর দাবি করেছেন, রাজ্য সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা তাঁদের রয়েছে। বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ দিতে পারেন তাঁরা। বিহারেও রাজ্যপাল সত্যপাল মালিকের কাছে একই দাবিতে দরবার করেছে বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব। এদিন দলের কয়েকজন বিধায়ককে নিয়ে তেজস্বী রাজ্যপালের কাছে যান। সেইসঙ্গে কংগ্রেস, হিন্দুস্তানি আওয়াম মোর্চা এবং সিপিআই-এমএলের নেতারাও তেজস্বীর সঙ্গে ছিলেন। তেজস্বী ১১১ জন বিধায়কের তালিকা জমা দিয়ে রাজ্যে সরকার গঠনের দাবি রাজ্যপালের কাছে জানান। ২৪৩ সদস্যের বিহার বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য ১২২ জন বিধায়কের সমর্থন প্রয়োজন। আরজেডি-র ৮০, হিন্দুস্তান আওয়াম মোর্চার ১, সিপিআই-এমএলের ৩ এবং কংগ্রেসের ২৭ বিধায়ক রয়েছেন। শাসক জোট জেডি-ইউ-র ৭০ এবং বিজেপির ৫৩ জন বিধায়ক রয়েছেন। রাজভবনের বাইরে তেজস্বী বলেছেন, জেডি-ইউ-র অনেক বিক্ষুব্ধ বিধায়ক তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। রাজ্যপাল সরকার গঠনের জন্য ডাকলে তাঁরা বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিয়ে দেবেন বলে দাবি করেছেন তেজস্বী। তিনি আরও বলেছেন, রাজ্যপাল এ বিষয়ে তাঁর সিদ্ধান্ত তাঁদের জানাবেন বলে জানিয়েছেন। বিজেপি অবশ্য তেজস্বীর দরবারকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, এটা সংবাদমাধ্যমের দৃষ্টি আকর্ষণের কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়।