হায়দরাবাদ: অ-কংগ্রেসি, অ-বিজেপি ফ্রন্ট গঠনের ভাবনা সামনে রেখে জাতীয় স্তরে সক্রিয়তা বাড়াতে চলেছেন তেলঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও (কেসিআর)। এ ব্যাপারে আলোচনা প্রক্রিয়া শুরুর পথে তিনি। গতকালই দেশের কৃষক, দলিতদের হাল ফেরানোর জন্য কংগ্রেস ও বিজেপি-বিরোধী মোর্চার গড়ার সওয়াল করেন তেলঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি (টিআরএস) সভাপতি। তার আগে গত শনিবারও তিনি জানান, সরকার পরিচালনায় 'গুণগত বদল' আনার পক্ষপাতী তিনি। এজন্য জাতীয় রাজনীতিতে সামিল হতে আগ্রহী তিনি। নানা ভাবে যারা দেশের কথা ভাবছেন, তাঁদের রাজনীতিতে গুণগত বদল আনার প্রক্রিয়ায় সামিল করতে চান কেসিআর। ইতিমধ্যেই কেসিআরের পরিকল্পনাকে সমর্থন জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন, যাঁদের মধ্যে আছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়েইসি, ঝাড়খণ্ডের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম নেতা হেমন্ত সোরেন, মহারাষ্ট্রের দুজন এমপি-ও। সোমবার কেসিআরের কার্য্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুখ্যমন্ত্রী শুরুতে অবসরপ্রাপ্ত আইপিএস, আইএএস, আইএফএস ও আইআরএসদের সঙ্গে কথা বলবেন যাঁরা দেশের নানা স্তরে প্রশাসনের মাথায় ছিলেন, বিশাল অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ ও রাজ্য ও জাতীয় স্তরে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহকে খুব কাজ থেকে দেখেছেন। এঁদের সঙ্গে কথা বলে ভাল ফল মিলতে পারে বলে মনে করছেন কেসিআর। এ ধরনের আলোচনা যাতে সফল ভাবে হয়, তার সলতে পাকানোর কাজ করছেন তিনি। দেশের প্রতিরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলানো প্রাক্তন কর্তা, আইন জগতের উজ্জ্বল লোকজন, সব রাজ্যের কৃষক সংগঠনগুলির সঙ্গেও আলোচনা করতে চান কেসিআর। কথা বলতে চান অর্থনীতিবিদদের সঙ্গেও। হায়দরাবাদ, নয়াদিল্লি, কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু সহ নানা জায়গায় এই আলোচনা পর্ব চলবে বলে জানা গিয়েছে। গতকালই অবশ্য কেসিআরের উদ্যোগকে কটাক্ষ করে তেলঙ্গানা প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি এন উত্তম কুমার রেড্ডি বলেন, নিজের সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে তিনি এসব নাটক করছেন! রাজ্যের জন্য কেন্দ্রীয় বরাদ্দের অর্থ আনতে টিআরএস সরকারের ব্যর্থতা ঢাকার গেমপ্ল্যান এটা। গত ৪ বছরে তেলঙ্গানার জনগণের সমস্যার সমাধান করতে পারেননি, আর এখন জাতীয় রাজনীতিতে নামতে চাইছেন! কেসিআরকে বিজেপির 'অঘোষিত সঙ্গী' বলেও কটাক্ষ করেন কংগ্রেস নেতাটি।