মুম্বই: টাকার অভাবে স্কুলের পোশাক এবং বই কিনতে না পেরে আত্মহত্যা করল মহারাষ্ট্রের এক ঋণগ্রস্ত কৃষকের ছেলে। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে ওসমানাবাদ জেলার ভাশি তহসিলের বাভি গ্রামে। পুলিশ সূত্রে খবর, মৃত কিশোরের নাম আরবাজ নবিলাল আত্তার (১৩)। সে নবম শ্রেণির ছাত্র ছিল। তার বাবা নবিলাল মহম্মদ আত্তার ব্যাঙ্ক থেকে এক লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই টাকা শোধ দিতে পারেননি। টাকার অভাবেই আরবাজকে বই, খাতা, স্কুলের ইউনিফর্ম কিনে দিতে পারবেন না বলে জানিয়ে দেন। এরপরেই নিজেদের জমির একটি তেঁতুল গাছে গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে আরবাজ। মহারাষ্ট্রে গত দু দিনে চার জন ঋণগ্রস্ত কৃষক আত্মহত্যা করেছেন। তাঁদের মধ্যে সুপাদু ভিকা পওয়ার নামে একজন কৃষক নিজেই চিতা সাজিয়ে তার উপর শুয়ে পড়েন। নাসিকের মালেগাঁওয়ের মহকুমা শাসক অজয় মোর বলেছেন, পওয়ার তাঁর স্ত্রীর নামে ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতে পারছিলেন না। সেই কারণেই তিনি আত্মহত্যা করেছেন বলে পরিবারের দাবি। তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কচারু পুঞ্জ আহের (৬৫) নামে অপর এক কৃষক বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনি ছেলের নামে তিন লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন। হরিশচন্দ্র বসন্ত আহিরি নামে অপর এক কৃষক একটি কুয়োয় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। তিনিও ঋণগ্রস্ত ছিলেন বলে জানা গিয়েছে। আপ্পাসাহেব খাণ্ডেরাও যাদব (৩২) নামে অপর এক ঋণগ্রস্ত কৃষক বিদ্যুতের তারে হাত দিয়ে নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছেন। তিনি ২০১০ সালে সমবায় থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। সেই ঋণ শোধ করতে পারেননি। সেই কারণেই আত্মহত্যা করেছেন আপ্পাসাহেব।