ভুবনেশ্বর: পুরীর জগন্নাথ মন্দিরের রত্নভান্ডারের চাবি পাওয়া যাচ্ছে না, এ খবরে শোরগোল তৈরি হওয়ার পর মন্দিরের পরিচালন কর্তৃপক্ষের দাবি, মূল্যবান রত্নসামগ্রী নিরাপদ হেফাজতেই আছে। গতকাল চাবির হদিশ মিলছে না বলে খবর ছড়ানোর পর ওড়িষার মুখ্যমন্ত্রী নবীন পট্টনায়ক বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। তারপরই বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ দূর করতে এ কথা জানায় দ্বাদশ শতকের মন্দিরের পরিচালন কর্তৃপক্ষ। শ্রী জগন্নাথ মন্দির কর্তৃপক্ষ (এসজেটিএ) বলেছে, রত্নভান্ডারের দুটি কক্ষ আছে। ভিতরের কক্ষটি শেষবার খোলা হয়েছিল ১৯৮৫ সালে, রত্নসামগ্রীর তালিকা তৈরির জন্য। তারপর সেটি তালা মেরে দেওয়া হয় গালা লাগিয়ে। ফলে ভিতরের সব জিনিসপত্র একেবারে অক্ষত রয়েছে। তাছাড়া রত্নভান্ডারের বাইরের চেম্বার না খুলে ভিতরের ঘরে যাওয়া অসম্ভব। তাই আমরা বলতেই পারি, দেবতার সব রত্ন ঠিকমতো নিরাপদেই রয়েছে। বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশকেও স্বাগত জানিয়েছে মন্দির পরিচালন কর্তৃপক্ষ, আশ্বাস দিয়েছে যে, তারা তদন্তে সরকারকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে। প্রসঙ্গত, গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্টের নির্দেশমতো রত্নভান্ডারের হাল দেখতে ঢুকেছিল ১৬ সদস্যের টিম। বাইরে থেকেই সার্চ লাইট ফেলে রত্নভান্ডারের ভিতরের কক্ষ পরীক্ষা করতে হয় তাদের। চাবির হদিশ না থাকায় বাইরে থেকেই পরীক্ষা করতে বলা হয়েছিল, এ কথা মেনে নিয়ে মন্দির কর্তৃপক্ষ বলে, কালেক্টর এটা আগেই জানিয়েছিলেন। বিভিন্ন লোহার সিন্দুক, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনেক খুঁজেও চাবির সন্ধান না মেলায় সেদিনই রাজ্য সরকারকেও তা জানানো হয়। ১৯৮৫ সালে রত্নভান্ডার খোলার সময়কার মন্দিরের সহকারী প্রধান প্রশাসক রবীন্দ্র নারায়ণ মিশ্রের সঙ্গেও মন্দির কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেছে চাবি উধাও হয়ে যাওয়ার রহস্যের পিছনে কোনও সূত্র পাওয়া যায় কিনা, সে ব্যাপারে।