নয়াদিল্লি:  তিন বছরের মেয়ে এবং একশো কোটির সম্পত্তি ফেলে রেখে জৈন দম্পতির সন্ন্যাস গ্রহণের সিদ্ধান্তের খবর দিন কয়েক আগে সামনে আসতেই সমাজের বিভিন্ন মানুষ সমালোচনায় মুখ খুলেছিলেন। একটা ছোট মেয়েকে কীভাবে তাঁর বাবা-মা ফেলে রেখে সন্ন্যাস নিতে পারেন, সেই নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক। এরপর শনিবার সন্ন্যাস নেন মেয়েটির বাবা মহিলার স্বামী সুমিত রাঠৌঢ়। সেদিন কোনও এক নিয়মের বেড়াজালে আটকে যায় ৩৪ বছর বয়সি অনামিকা রাঠৌঢ়ের সন্ন্যাস গ্রহণের প্রক্রিয়া। অবশেষে আজ বিভিন্ন বিতর্কের মাঝে সন্ন্যাস গ্রহণ করলেন অনামিকা। অখিল ভারতীয় সাধুমার্গি জৈন শ্রেভক সঙ্ঘ নিমাচের জেলা-ইনচার্জ সন্দীপ খাবিয়া জানিয়েছেন, সুরাটে অনামিকার অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়েছে। সেখানে আচর্য রামলাল জি মহারাজের তত্ত্বাবধানে সন্ন্যাস গ্রহণ করেন অনামিকা। এই গুরুর তত্ত্বাবধানের দীক্ষা হয়েছে অনামিকার স্বামীর। তবে আজকের অনুষ্ঠানে তেমন আড়ম্বর ছিল না। এখন থেকে অনামিকাকে সাধ্বী অনাকার নামে সম্বোধন করা হবে। প্রসঙ্গত, তিন বছরের মেয়ে ইভয়াকে ছেড়ে সন্ন্যাস গ্রহণের সিদ্ধান্তের জন্যে এই জৈন দম্পতির প্রচুর সমালোচনা করা হয়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং নিমাচ ও সুরাটের স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিনিধিরা জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের কাছে চিঠিও লেখে। শনিবার যখন সুমিত যোগ দেন সন্ন্যাসে, তখন অনামিকার সন্ন্যাস নেওয়া আটকে যাওয়ায়, অনেকেই মনে করেন, হয়তো সমাজের চাপে আপাতত সন্ন্যাস নিচ্ছেন না মহিলা। তবে জৈনদের এক ধর্মগুরু বলে দেন, কোনও বাইরের ক্ষমতা জৈনদের কর্মসূচীতে নাক গলাতে পারবে না। এদিকে ওই জৈন দম্পতির বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছিল, সেটা কার্যত নস্যাত করে দিয়েছেন অনামিকা। তাঁর দাবি, মেয়েকে তাঁর ভাই এবং ভাইয়ের বউ দত্তক নিয়েছেন। তাঁদের সম্পত্তিও রয়েছে বিশাল। কাজেই এই নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের চিন্তিত হওয়ার কোনও কারণ নেই।