বেঙ্গালুরু: সুপ্রিম কোর্টে রাতভোর বেনজির শুনানিতে সম্মতি মেলার পর বৃহস্পতিবার সকালে কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিলেন বি এস ইয়েদুরাপ্পা। ৭৫ বছর বয়সি লিঙ্গায়েত নেতার এই নিয়ে দ্বিতীয়বার রাজ্যের কর্ণধার হলেন। তাঁকে রাজভবনে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল বজুভাই ভালা। তিনি একাই শপথ নেন। কংগ্রেস বিধায়করা বাইরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন। সেখানে রয়েছেন গুলাম নবি আজাদ, অশোক গেহলট, সিদ্দারামাইয়ার মতো শীর্ষ নেতারা। তাঁরা বিধানসভায় মহাত্মা গাঁধীর মূর্তির পাদদেশে জড়ো হয়েছেন। সঙ্গী জেডি (এস) বিধায়করা বিক্ষোভে যোগ দেবেন। ইয়েদুরাপ্পাকে মুখ্যমন্ত্রী পদপ্রার্থী প্রজেক্ট করেই ভোটে লড়েছিল বিজেপি। ১০৪টি আসনে জিতে একক বৃহত্তম দল হওয়ার পর তিনিই দলের পরিষদীয় নেতা নির্বাচিত হন। সরকার গড়ার প্রয়েজনীয় ১১২ জন বিধায়ক না থাকা সত্ত্বেও সবচেয়ে বড় দল বলে বিজেপিকে রাজ্যপাল আমন্ত্রণ জানানোয় গতকাল রাতেই সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয় ভোটের ফল বেরনোর পর জোট গড়া দুই দল কংগ্রেস ও জেডি (এস), যাদের শক্তি যথাক্রমে ৭৮, ৩৭। বাইরের আরও দুই বিধায়কের সমর্থন তাদের সঙ্গে আছে বলে বলে দাবি করে গতকাল তারাও রাজ্যপালের কাছে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত রাজভবন থেকে ডাক পান ইয়েদুরাপ্পাই। গভীর রাতে শুনানির পর সর্বোচ্চ আদালতের বেঞ্চ কংগ্রেস, জেডি (এস)-এর আপত্তি সত্ত্বেও ইয়েদুরাপ্পা মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিতে পারবেন বলে জানিয়ে দেয়। যদিও তাঁকে ১৫ দিনের মধ্যে বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণের নির্দেশ দিয়েছে বেঞ্চ। যদিও তিন বিচারপতি জানিয়ে দেন, মন্ত্রিসভার শপথগ্রহণ ও সরকার গঠন বিচার্য মামলার চূড়ান্ত রায়ের ওপর নির্ভর করবে। বিচারপতি এ কে সিকরি, বিচারপতি এস এ বোবদে ও বিচারপতি অশোক ভূষণ, ইয়েদুরাপ্পা রাজ্যপাল ভালাকে যে দুটি বার্তায় সরকার গঠনের দাবি জানিয়েছেন, সেগুলি তাঁদের সামনে পেশ করতে কেন্দ্রকে নির্দেশ দেন। মামলায় সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ওই বার্তাগুলি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে জানান বিচারপতিরা। পাশাপাশি বেঞ্চ কর্নাটক সরকার ও ইয়েদুরাপ্পাকে কংগ্রেস-জেডি (এস) এর দায়ের করা আবেদনের ব্যাপারে তাদের বক্তব্য পেশ করতে বলেছে, আগামীকাল পরবর্তী শুনানির দিন স্থির করেছে।