নয়াদিল্লি: পাঠ্যবইয়ে বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মামলায় ঢিলেমির অভিযোগ। NCERT-র সেই বই নিয়ে বিতর্কের জেরে এবার বড় সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদি সরকারের। বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে দুর্নীতি রয়েছে বলে যে পাঠ্যবই ছেপেছিল, তা তুলে নিল NCERT. বিতর্কিত বইটি তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রক সূত্রে জানা গেল। (NCERT Book Row)
অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞান বইয়ে বিচারব্যবস্থাকে নিয়ে যে অধ্য়ায়টি ছিল, তাতে বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন অংশকে দুর্নীতিগ্রস্ত বলে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি, লক্ষ লক্ষ মামলা জমে থাকার জন্য দায়ী করা হয় বিচারব্যবস্থার ঢিলেমিকে। সেই নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে মঙ্গলবারই বইটির বিক্রি বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে খবর। (Corruption in Judiciary)
বুধবার সকালে সুপ্রিম কোর্টেও বিষয়টি ওঠে। অভিজ্ঞ আইনজীবী কপিল সিব্বল এবং অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। বেছে বেছে বিচারব্যবস্থাকে নিশানা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তোলেন তাঁরা। এতে CJI সূর্যকান্তও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন। জানান, আদালতের অবমাননা বরদাস্ত করা হবে না। কয়েকটা দিন দেখবেন, তার পর স্বতঃপ্রণোদিত পদক্ষেপ করবেন বলে জানান। এর পরই বইটির বিক্রি বন্ধ রাখার কথা জানা গেল।
যে পাঠ্যবইটিকে ঘিরে বিতর্ক, সেটিতে ‘আমাদের সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ শীর্ষক অধ্যায়ে ‘বিচার বিভাগের দুর্নীতি’ নামের একটি অংশ ছিল, যাতে লেখা ছিল, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন অংশ দুর্নীতিগ্রস্ত। (NCERT Class 8 Social Science)
বছরের পর বছর মামলা পড়ে থাকার একাধিক কারণও ব্যাখ্যা করা হয় বইয়ে। কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়, পর্যাপ্ত সংখ্যক বিচারপতির অভাব, জটিল বিচার প্রক্রিয়া, দুর্বল পরিকাঠামো।
নতুন বইয়ে আরও লেখা ছিল যে, সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮১ হাজার মামলা পড়ে রয়েছে। হাইকোর্টগুলিতে মামলা পড়ে রয়েছে ৬২ লক্ষ ৪০ হাজার। জেলা এবং নিম্ন আদালতগুলিতে ৪ কোটি ৭০ লক্ষ মামলা পড়ে রয়েছে। ‘বিচারব্যবস্থার দুর্নীতি’র অংশে বলা ছিল, বিচারপতিরা আদর্শ আচরণ বিধির দ্বারা আবদ্ধ, যা শুধুমাত্র আদালত কক্ষেই তাঁদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে না, আদালতের বাইরেও তাঁদের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করে। বিচারব্যবস্থা যাতে দেশের কাছে দায়বদ্ধ থাকে, তার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া এবং জনসাধারণের অভিযোগ গ্রহণ, পর্যবেক্ষণ এবং প্রতিকার ব্যবস্থা রয়েছে। এর মাধ্যমে ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ১৬০০-রও বেশি অভিযোগ জমা পড়েছে’।