কলকাতা: সোমবার সংসদে পেশ করা হবে ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’। সংশোধনী বিলে বলা হয়েছে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের হবে ১০ বছরের কারাদণ্ড, সেই সঙ্গে করা হবে ১০ কোটি টাকা জরিমানা। আইন সংশোধন করে প্রশ্নফাঁস আটকানো সম্ভব নয়, সরাতে হবে দুর্নীতিগ্রস্তদের, দাবি বিরোধীদের।  

Continues below advertisement

৩৬ দিনের লড়াইয়ে বড় জয়। জন্ম নেওয়ার ৭১ দিনের মধ্যেই প্রথম আন্দোলনে সফল 'আরশোলা'-পার্টি। ছাত্র আন্দোলনের প্রবল চাপের মুখে ইস্তফা দিতে হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে। দায়িত্ব নিয়েছেন নতুন শিক্ষামন্ত্রী। 

এবার শিক্ষা ও পরীক্ষা ব্যবস্থার খোলনলচে বদলের পালা। মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত খসড়া বিলে অনুমোদনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কেন্দ্রীয় সরকার জানিয়ে দিয়েছিল, সোমবার সংসদে পেশ হবে বিল। 

Continues below advertisement

সূত্রের খবর, সংশোধনী বিলে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় দোষীদের হবে ১০ বছরের কারাদণ্ডের সংস্থান রয়েছে। সেই সঙ্গে করা হবে ১০ কোটি টাকা জরিমানা। ফাস্ট ট্র্যাক আদালতে হবে বিচার। ৩ মাসের মধ্যে শেষ করা হবে শুনানি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেন, 'যারা শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতের সঙ্গে ছিনিমিনি খেলেছে, তারা এখন জেলে বন্দি। আমরা ইতিমধ্যেই ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠন করেছি। আমরা বিশ্বখ্যাত প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানির নেতৃত্বে একটি উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্স গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এই টাস্ক ফোর্স পরীক্ষা সংস্কারের বিষয়টিতে মনোযোগ দেবে এবং তাদের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আগামী পরীক্ষাগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে'।

সূত্রের খবর, প্রশ্ন ফাঁশ রোখার পাশাপাশি, পরীক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারে গঠিত উচ্চ-ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্ক ফোর্সে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ নন্দন নিলেকানি ছাড়াও থাকছেন ইসরো-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান এস সোমনাথ, আইবি-র প্রাক্তন অধিকর্তা তপন ডেকা, আইআইটি চেন্নাই-এর অধিকর্তা ভি কামাকোটি, প্রাক্তন শিক্ষা সচিব অনিতা কারওয়াল এবং লজিস্টিকস বিশেষজ্ঞ অমৃত লাল মিনা। 

সোমবার লোকসভায় ‘পাবলিক এগ্জ়ামিনেশন (প্রিভেনশন অফ আনফেয়ার মিনস) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬’ পেশ করবেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। বিলে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস, উত্তরপত্রে কারচুপি, কম্পিউটার হ্যাকিং, ডিজিটাল মাধ্যমে প্রশ্ন বা উত্তর ছড়িয়ে দেওয়া এবং সংগঠিত পরীক্ষা জালিয়াতি-কে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে।

অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ছাড়াও সংগঠিত চক্র, সংস্থা বা পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের আগেই, নিটকাণ্ডে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে কেন্দ্রীয় শিক্ষা সচিবকে। ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সির  ৪৭ জন আধিকারিককেও বরখাস্ত করা হয়েছে নিটে অনিয়মের অভিযোগে। এরপর আসছে নতুন আইন। কিন্তু আইন করে কি প্রশ্নফাঁস আটকানো সম্ভব হবে? তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন বলেন, 'শিক্ষামন্ত্রী পাল্টে বা নতুন বিল এনেও রোখা সম্ভব বলে মনে করি না। সিস্টেম বদলাতে হবে'। 

সিপিএম-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সুজন চক্রবর্তী বলেন,' আইন ছিল না বলে ফাঁস হচ্ছিল না কি, দুর্নীতি করার জন্য ফাঁস হচ্ছিল? দুর্নীতি করার জন্য যদি ফাঁস হয়, সেটাকে আইন এনে ঠেকানো যায় না। দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন। দুর্নীতিগ্রস্ত লোকরা যদি মাথার ওপর উঠে নাচতে থাকে, তাহলে ছাত্র এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিপদ! তা তা মেনে নেবে না।' 

অন্যদিকে, NEET পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর বলপ্রয়োগের অভিযোগের বিষয়ে সংসদে জরুরি আলোচনার জন্য তৎপরতা শুরু করেছে ‘ইন্ডি’ জোট। এনিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখেছেন রাহুল গান্ধী। তৃণমূল সাংসদ সাগরিকা ঘোষ সোমবার ‘অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় বিষয়’ হিসেবে বিষয়টি নিয়ে আলোচনার জন্য সংসদে দিনের নির্ধারিত কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাব পেশ করেছেন।