কাঠমাণ্ডু : সুনামির মতো পাহাড়ের মাথা থেকে নেমে আসা হিমবাহ গোলা জলের স্রোত ! মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয় ছবির মতো সাজানো নেপালের একাধিক জেলা। অসংখ্য় মানুষের মৃত্যু। আতঙ্ক, হাহাকার। আর্ত চিৎকার। এক নিমেষে পাল্টে যাওয়া একটা বিরাট জনপদের ছবি। মৃত্যুমিছিল অবিরাম। এই ঘটনার পর থেকেই নেপালে যেন থামতেই চাইছে না প্রকৃতির ধ্বংসলীলা।
ফের একের পর এক ভূমিধস নামল নেপালে। তার জেরে নেপালের বাগমতী ও গণ্ডকী প্রদেশের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত। বেশ কয়েকটি রাস্তায় সম্পূর্ণভাবে বন্ধ যান চলাচল। যাত্রীরা ফের মহাবিপদে। চরম অনিশ্চয়তায়। কবে সারানো হবে রাস্তা, আবার নামবে না তো ধস? আবার ফিরবে না তো অগাস্টের স্মৃতি ? আতঙ্ক চরমে। নেপাল পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অগাস্টের ২৬ তারিখের বন্যার পর থেকেই রাসুয়া জেলার সবকটি প্রধান রাস্তা এক্কেবারে বন্ধ। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই রাস্তাগুলি বন্ধই থাকবে। খবর প্রশাসনিক সূত্রে।
একের পর এক ভূমিধসের ফলে বেনি-জোমসোম সড়কের একটি অংশও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। রঘুগঙ্গা গ্রামীণ পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের বৈসারিতে ২৬ সেপ্টেম্বর সকাল ৫টা ৫০ মিনিট নাগাদ ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকেই ওই রুটে যান চলাচল বন্ধ একেবারে। অন্যদিকে, কালীগণ্ডকী করিডরেও যান চলাচল স্বাভাবিক নয়। ৩০ সেপ্টেম্বর বিকেলে জান্তি পাহিরো এলাকায় ভূমিধসের পর থেকে এই রাস্তায় একদিক দিয়ে গাড়ি চলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, এখন বড় কোনও গাড়ি এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে পারছে না।
এরই মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। বন্যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত বেসিসাহার থেকে খাংসার পর্যন্ত সড়কের একটি অংশ খুলে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আপাতত একদিক দিয়ে গাড়ি চলছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বন্ধ হয়ে থাকা রাস্তাগুলি দ্রুত পরিষ্কার করার কাজ চলছে। তবে যেভাবে বৃষ্টি চলছে, তাতে যে কোনও সময় পাহাড়ের পাথর ভেঙে নেমে আসতে পারে। তাই গাড়ির চালকদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বড় গাড়ির চালকদের এড়িয়ে চলতে বলা হয়েছে আংশিকভাবে চালু থাকা রুটগুলি।
