কলকাতা: গত মাসেই প্রকৃতির রোষের কবলে পড়ে নেপাল। ত্রিশূলী নদীর হড়পা বানের জল-প্রলয়ে কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে নেপালের ৮টি জেলার একাধিক জায়গা। জল-কাদা-পাথরের ঢেউয়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে বহু এলাকা। দোতলা বাড়ির ওপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে স্রোত। ধ্বংস হয়ে গিয়েছে সব কিছু। আর এর মাঝেই আবারও প্রকৃতির রোষে নেপাল! নিখোঁজ বহু মানুষ।

Continues below advertisement

রবিবার সকালে মধ্য নেপালের তিব্বত সীমান্তের কাছে মানাং জেলার হিমলুং শৃঙ্গের বেস ক্যাম্পে তুষারধস হয়। এরপর অন্তত ১০ জন স্থানীয় পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজ হওয়ার খবরটি জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট। ৭,১২৬ মিটার উঁচু হিমলুং শৃঙ্গটি নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে অবস্থিত। তুষারধসের আগে বেশ কয়েকদিন ধরে এলাকাটিতে ভারী তুষারপাত হয়েছিল। এদিকে, খারাপ আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযান বিলম্বিত হয়েছে। হিমালয়ান হলিডেজ ট্রেকিং-এর বিভূতি চাঁদ ঠাকুর সংবাদ সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছেন যে, ''দুটি হেলিকপ্টার ও একটি উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রাখা হয়েছে, কিন্তু খারাপ আবহাওয়ার কারণে তল্লাশি অভিযান স্থগিত করা হয়েছে।'' 

বিভূতি চাঁদ ঠাকুর আরও বলেন যে, ''নিখোঁজ সকল ব্যক্তিই নেপালি। ভারী তুষারপাত পার্বত্য অভিযান পরিচালনায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। এই তুষারধসটি এমন এক সময়ে ঘটেছে যখন নেপালের অনেক অংশ খারাপ আবহাওয়ার কবলে। গত বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া ভারী বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট ভেসে গেছে এবং ভূমিধসও দেখা দিয়েছে।''‘এক্সপেডিশন অপারেটর্‌স অ্যাসোসিয়েশন নেপাল’-এর সাধারণ সম্পাদক ঋষি ভান্ডারী জানিয়েছেন, নিখোঁজদের মধ্যে ‘ইম্যাজিন নেপাল প্রাইভেট লিমিটেড’-এর দু’জন এবং ‘হিমালয়ান হলিডেজ় নেপাল’-এর আট জন রয়েছেন। 

Continues below advertisement

তুষারপাত অন্যান্য জনপ্রিয় পর্বতারোহণ কেন্দ্রগুলোকেও প্রভাবিত করেছে। এই সপ্তাহে মানাসলুতে ভারী তুষারপাতের কারণে পর্বতারোহীরা তাদের অভিযান বাতিল করতে বাধ্য হয়েছেন, অন্যদিকে ধৌলাগিরি পর্বতমালায় ট্রেকিংও বন্ধ রাখা হয়েছে। এই ঘটনার পর সামগ্রিক পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে নেপাল সরকার। দেশের পর্যটন বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেল রামকৃষ্ণ লামিছানে জানিয়েছেন, উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে, তবে আবহাওয়া খারাপ থাকায় উদ্ধারকাজ ব্যাহত হচ্ছে। পর্বতারোহীরা ঠিক কোথায় আটকে পড়েছেন তার দিকেও নজর দিচ্ছেন তাঁরা। 

১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে ৮টি নেপালেই অবস্থিত 

বিশ্বের ১৪টি সর্বোচ্চ শৃঙ্গের মধ্যে আটটিই নেপালে অবস্থিত। এখানকার পর্বতারোহীরা দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিতেও উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন। ৫০০-র বেশি অনুমতিপত্র জারি করা হয়েছে, যার বেশিরভাগই পৃথিবীর অষ্টম উচ্চতম পর্বতশৃঙ্গ মানাসলুর জন্য। এই সর্বশেষ ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন নেপাল ইতিমধ্যেই ২৬শে আগস্ট আঘাত হানা বিধ্বংসী হড়পা বনের বিপর্যয়ের সঙ্গে লড়াই করছে। এতে ১,৪০০ জনেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন এবং ৬,০০০ জনেরও বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।