নয়া দিল্লি: নেপালে হড়পা বান। ভাঙল সেতু থেকে রাস্তা। এখনও পর্যন্ত সরকারি খাতায় মৃতের সংখ্যা ১৫ পেরিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নেপালের ৬ জেলা। ঘটনায় নিখোঁজ শতাধিক। আর এরই মধ্যে এবার নেপালের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বললেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এই বিপর্যয়ের দিনে নেপালের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে ভারত সরকার।
আরও পড়ুন: কৈলাশ থেকে মৃত্যুদূত, হড়পা বানে বিপর্যস্ত নেপাল
হঠাৎই এই জলচ্ছবি, আর তাতেই বিপর্যস্ত হল হিমালয়ের কোলের এই দেশটা। অথচ বুধবার সকল থেকে ছিল ঝকঝকে নীল আকাশ। কোথাও বৃষ্টির চিহ্ন মাত্র ছিল না। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সকল ৯ টার দিকে হঠাৎই গুড়গুড় আওয়াজ শুনতে পান তাঁরা। আর তখনই দেখা যায় বিস্ফোরণের ধোঁয়ার মতো কুণ্ডলী পাকিয়ে নেমে আসছে জলের স্রোত।
নেপালের প্রশাসন সূত্রে খবর, এদিন হঠাৎই তিব্বত থেকে নেমে আসা ভূতকোশী নদীর জল হঠাৎই বৃদ্ধি পায়। সেই সময় হুড়মুড়িয়ে নেমে আসে হড়পা বান। কিন্তু হঠাৎ এমন কেন? সূত্রের খবর, গত কয়েকদিন ধরে চিনে প্রবল বৃষ্টি হচ্ছে। আর সেই কারণেই তিব্বতের জলাধারগুলোয় বাড়ছিল জলের পরিমাণ। আর বুধবার সকালে তিব্বতের একটি জলাধার নাকি ভেঙে যায়।
অন্যদিকে, ভূ বিজ্ঞানীদের ধারণা, তিব্বতে বরফের ধ্বসের কারণে ভূতকোশী নদীতে এই ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। যার ফলে প্রচুর পরিমাণে জল নেমে আসে নেপালে। নেপালের নুয়াকোট, রাসুয়া, ধাদিং ও চিতওয়ান সহ মোট ৬ টি জেলা ভয়াবহ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই হড়পা বানে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা না গেলেও, রাসুয়া জেলা প্রশাসন আশঙ্কা করছে ব্যাপক হতাহতের।
কোন পথে পরিস্থিতির মোকাবিলা? সেই দিক ঠিক করতে মন্ত্রিসভার বৈঠক ডাকেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পুলিশ ও সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দেন তিনি। নেপালের টুরিজম বোর্ডের পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে অন্তত ৩৮৪ জন পর্যটক নিখোঁজ। তাদের মধ্যে আবার ১০৫ জন সহ ২৯৩ জন বিদেশি পর্যটক।
এর সঙ্গে হেল্পলাইন খুলেছে নেপালের প্রশাসন। টোল ফ্রি এমার্জেন্সি নম্বর ১২৩৪। হট লাইন নম্বর ১১৪৪। এ ছাড়াও পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে ৯৮৫১২৮৯৪৪৫ নম্বরেও। নেপালের ভারতীয় দূতাবাসও হেল্পলাইন চালু করেছে। ৯৮৫১৩১৬৮০৭ ও ৯৭০৯১০৭৫০০ নম্বরে ফোন করলে যোগাযোগ করা যাবে ভারতীয় দূতাবাসের সঙ্গে।
