পশুপতিনাথে পুজো দিতেই যাওয়া সে-দেশে। দেবদর্শনও হয়েছিল ভালভাবেই। কিন্তু একটা মুহূর্তেই ওলটপালট হয়ে গেল সব ! অগ্নিগর্ভ নেপালে মর্মান্তিকভাবে প্রাণ হারালেন ভারতীয় মহিলা। গাজিয়াবাদ থেকে গিয়েছিলেন বেড়াতে। উঠেওছিলেন একটি বিলাসবহুল হোটেলেই। কাঠমান্ডুর হিলটন হোটেল দেশ-বিদেশের অতিথিদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। কিন্তু ভাবতে পারেনি এভাবেও আসতে পারে বিপদ !

নেপালে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা জারির পরই অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। এরপর ৯ সেপ্টেম্বর দেশ জুড়ে ছড়িয়ে পড়ে জনরোষ। জেন জ়েডের বিক্ষোভের আগুনে জ্বলতে শুরু করে গোটা দেশ। একের পর এক সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগ শুরু হয়। ক্রমেই অরাজকতার চেহারা নেয় প্রতিবাদীদের আন্দোলন। নেপালের বিলাসবহুল একটি হোটেলে আগুন লাগিয়ে দেয় প্রতিবাদীরা। ভেতরে আটকা পড়ে যান বহু অতিথি। কেউ দেশের , কেউ বিদেশের। সেই হোটেলেই ছিলেন গাজিয়াবাদের প্রৌঢ় দম্পতি।  সেখানেই  ঘনিয়ে এল প্রৌঢ়ার অন্তিম পরিণতি। 

প্রৌঢ় দম্পতির ছেলের কথায়, ৯ তারিখ উন্মত্ত জনতা হোটেলে ঢুকে পড়ে । আগুন লাগিয়ে দেয়। চারিদিকে দাহ্য বস্তু। হু হু করে ছড়িয়ে পড়ে আগুন। আটকে পড়েন ভারতীয় অতিথিরাও। রামবীর সিং গোলা ও তাঁর স্ত্রী রাজেশ গোলা। উদ্ধারকারী দল হোটেলের নিচে ম্যাট্রেস পেতে দেন। কোমরে চাদর বেঁধে ওপর থেকে ঝাঁপ দেন রামবীর। তাঁর স্ত্রীও লাফ দিতে চান। কিন্তু পা পিছলে এমন ভাবে পড়েন, প্রচণ্ড আঘাত পান পিঠে। সেখানেই মারা যান তিনি। 

গাজিয়াবাদের দম্পতির ছেলের কথায়, বহু আশা নিয়ে পশুপতিনাথে পুজো দিতে গিয়েছিলেন তাঁরা। পুজোও দিয়েছিলেন খুশি মনে। কিন্তু তারপর যে এমন ভয়াবহ কিছু অপেক্ষা করছে, ঘুণাক্ষরেও বোঝেননি তাঁরা। 

যুব সমাজের গণঅভ্যুত্থানে কার্যত ধসে পড়েছে নেপালের সরকার। পুড়ে ছাই হয়েছে একাধিক সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি। নেপালের অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে শুরু করে ভারত-নেপাল সীমান্তের ইমিগ্রেশন অফিস। মাত্র ২-৩ দিনের বিক্ষোভের আঁচ সেসব জায়গায় স্পষ্ট সেখানে। ভেঙে চুরমার সবটাই। নেপাল জুড়ে বিখ্যাত সুপারমার্কেট চেন ভাট-ভাটেনি-র আওতায় থাকা ২৮টি স্টোরের মধ্যে অক্ষত অবস্থায় রয়েছে মাত্র ৭টি। এই কয়েকদিনে কাজ হারিয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দেশজুড়ে দেদার চলেছে লুঠপাট।  সব মিলিয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি ধ্বংস হয়েছে নেপালে। ফের কবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে প্রতিবেশী রাষ্ট্র, উত্তর দেবে সময়।