কলকাতা : চাকরিক্ষেত্রে অতিরিক্ত সময় কাজ করতে হয় অনেক সময়ই। অনেক জায়গায় তো প্রতিদিনই ওভারটাইম কাজ করা স্বাভাবিক বলেই ধরে নেওয়া হয়।  কিন্তু জানেন কি, ওভারটাইম করলে কত টাকা পাওয়া যায় ভারতের নতুন শ্রম আইন অনুসারে।  ওভারটাইম কাজ করা একটি সাধারণ বিষয় ভারতের অনেক অফিসেই ।

Continues below advertisement

নতুন শ্রম আইন কী বলে 

অনেক কর্মী নিয়মিত অতিরিক্ত সময় কাজ করলেও তারা অতিরিক্ত বেতন পান না। আসলে অধিকার সম্পর্কে অনেকেই সচেতন নয়।  সাম্প্রতিক শ্রম আইন সংস্কারের ফলে এই ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি এসেছে। নতুন শ্রম আইনের অধীনে অতিরিক্ত কাজের জন্য কর্মীদের নির্দিষ্ট নিয়ম অনুযায়ী বেশি পারিশ্রমিক দেওয়ার বিষয়টি আরও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

Continues below advertisement

নতুন শ্রম আইনে ওভারটাইমে কত বেতন

শ্রম আইন অনুযায়ী, কোনও কর্মীকে তার নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করানো হলে সেটিকে নতুন শ্রম আইনে হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সেই অনুযায়ী অতিরিক্ত পারিশ্রমিক দেওয়া বাধ্যতামূলক। আগে অনেক প্রতিষ্ঠান এই নিয়ম সঠিকভাবে মানত না, যার ফলে কর্মীদের আর্থিক ক্ষতি হত। তবে বর্তমানে সরকার ও শ্রম দফতর এই বিষয়ে কড়া নজরদারি শুরু করেছে ।  কোম্পানিগুলোকে ওভারটাইমের সঠিক হিসাব রাখা ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী পারিশ্রমিক দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছে। এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

ভারতে ওভারটাইম সংক্রান্ত আইন বহুদিন ধরেই প্রচলিত, বিশেষ করে Factories Act, 1948-এ স্পষ্টভাবে বলা আছে যে নির্দিষ্ট কর্মঘণ্টার বাইরে কাজ করলে কর্মীকে দ্বিগুণ হারে বেতন দিতে হবে। পরবর্তীতে Occupational Safety, Health and Working Conditions Code, 2020-এর মাধ্যমে এই নিয়মগুলোকে আরও সংগঠিত ও আধুনিক কাঠামোর মধ্যে আনা হয়েছে, যাতে কর্মীদের অধিকার আরও সুরক্ষিত হয় এবং কোম্পানিগুলোর ওপর নিয়ম মানার চাপ বাড়ে।

কখন 'দ্বিগুণ বেতন'? 

সাধারণত একজন কর্মীর দৈনিক ৮ থেকে ৯ ঘণ্টার শিফট নির্ধারিত থাকে। এই নির্ধারিত সময়ের বাইরে যদি তিনি এক বা একাধিক ঘণ্টা কাজ করেন, তবে সেটি ওভারটাইম হিসেবে গণ্য হবে। কোনো ব্যক্তি তার নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশি কাজ করলে, তিনি অবশ্যই ওভারটাইম পাবেন। যে অতিরিক্ত সময় কাজ করবেন,   ‘দ্বিগুণ বেতন’ দেওয়া হবে।  যদি এক ঘণ্টা অতিরিক্ত কাজ করেন, তবে  দুই ঘণ্টার অতিরিক্ত বেতন দিতে হবে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কোনো কোম্পানি তার কর্মীদের অতিরিক্ত কাজ করতে বা বাড়তি টাকা দিতে অস্বীকার করতে পারবে না।নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আপনি বেসিক-এর হিসাব অনুসারে এই 'দ্বিগুণ বেতন' পাবেন।  

এই নিয়মের মূল উদ্দেশ্য হল, কর্মীদের তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করা এবং কর্মক্ষেত্রে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা। যদি কোনো কর্মীকে নির্ধারিত সময়ের বাইরে কাজ করানো হয় কিন্তু তাকে সঠিক পারিশ্রমিক না দেওয়া হয়, তাহলে তিনি তার প্রতিষ্ঠানের মানবসম্পদ বিভাগে অভিযোগ জানাতে পারেন। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের শ্রম দফতরেও বিষয়টি উত্থাপন করা যায়। এর ফলে কর্মীদের শোষণ কমবে এবং কর্মক্ষেত্রে একটি ন্যায্য পরিবেশ তৈরি হবে।