নয়াদিল্লি: কেরলের কন্যে এখন লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র ! জোহরান মামদানির পর এখন আমেরিকায় থাকা ভারতীয়দের আলোচনার মধ্যমণি এখন  নিত্যা রমন। ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা লস অ্যাঞ্জেলেসের মেয়র নির্বাচনের শুরু থেকেই প্রার্থী হিসেবে নজর কাড়েন। বিদায়ী  মেয়র ক্যারেন বাসকে পরাজিত করে অবশেষে তিনি জয়ী। লস অ্যাঞ্জেলসের মেয়র হচ্ছেন তিনিই। ডেমোক্রেটিক সোশ্যালিস্টস অফ আমেরিকার সমর্থিত রমন মোট ভোটের ৫২.৭০% পেয়েছেন। তাঁর আগে কোনও ভারতীয়-আমেরিকান এই শহরের মেয়র পদে বসেননি।  

Continues below advertisement

ভারতের সঙ্গে রমনের সম্পর্ক শুধু বার্থ সার্টিফিকেটে নয়। আরও অনেক গভীরে তাঁর শিকড়। ১৯৮১ সালে কেরলের ত্রিশূরে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।  মাত্র ছয় বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে চলে যান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।  তাঁর আগে তিরুবনন্তপুরমে কাটিয়েছেন ছেলেবেলাটা। এরপর উচ্চ শিক্ষা  হার্ভার্ডে। ২০০৩ সালে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে আসেন  দিল্লিতে । কাজ করেন ভারতের রাজধানী শহরে বস্তিতে থাকা মানুষগুলোর সঙ্গে। কাছ থেকে দেখেন তাঁদের জীবন। সেই সময় দিল্লির বহু বস্তিবাসী ভয়ে কাঁটা হয়ে আছেন, এই বুঝি কমনওয়েলথ গেমস আয়োজনের জন্য তাঁদের মাটিছাড়া হতে হয় ! সেই সময়টা এই সব মানুষদের জীবন কাছ থেকে দেখেছেন রমন।

কাজের সূত্রে রমন  থেকেছেন দক্ষিণ ভারতেও। ২০১০ সালে তিনি ‘ট্রান্সপারেন্ট চেন্নাই’। ডেটা ও ম্যাপিং ব্যবহার করে গরিব পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর সমস্যাগুলো নথিভুক্ত করার কাজ করেন তিনি। ২০১৩ সালে নগর পরিকল্পনা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন  ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে  । তারপর চলে যান লস অ্যাঞ্জেলেসে। সেখানেও পিছিয়ে পড়া মানুষের সমস্যাগুলো নিয়ে কাজ করেছেন তিনি। মেয়র নির্বাচনের ক্যাম্পেনের সময়েও তাঁর মুখে উঠে এসেছিল আবাসনের সাশ্রয়যোগ্যতা, গৃহহীনতা এবং পৌর পরিষেবা প্রদানের মতো বিষয়।              

Continues below advertisement

মেয়র নির্বাচনের জয় পেয়ে ভারতীয় বংশোদ্ভূত নিত্যা রমনের  লস অ্যাঞ্জেলেস, আপনাদের পরবর্তী মেয়র হতে পেরে আমি গভীরভাবে সম্মানিত। আমি এইমাত্র মেয়র বাসের সাথে কথা বলেছি এবং তাঁর নেতৃত্ব ও কয়েক দশকের সেবার জন্য আমার গভীরতম কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছি। তিনি না থাকলে লস অ্যাঞ্জেলেস আজকের এই শহরটি হতে পারত না। আমি এই শহরকে ভালোবাসি। আমি এখানকার মানুষের উপর বিশ্বাস রাখি। সামনের পথ কঠিন হবে, এবং পরিবর্তন আসতে সময় লাগবে। আর আমরা একসঙ্গে, আমাদের এই শহরটির মতোই অসাধারণ একটি ভবিষ্যৎ গড়ে তুলব। ধন্যবাদ, LA । চলুন কাজে লেগে পড়ি।